বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে নরমাল ডেলিভারির জন্য লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, মাতৃস্বাস্থ্য ও নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাভাবিক প্রসবকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা কমিয়ে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
Content Summary
কেন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে নরমাল ডেলিভারি রুম
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, বর্তমানে অনেক বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নরমাল ডেলিভারির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই গর্ভবতী নারীরা স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
তিনি বলেন, আগে দেশের অধিকাংশ সন্তান স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিত। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হলেও অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া উদ্বেগজনক। তাই প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন নিশ্চিত করা জরুরি।
অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান কমানোর ওপর গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গর্ভাবস্থার নিয়মিত পরীক্ষা শেষে অনেক পরিবারকে বিভিন্ন জটিলতার ভয় দেখিয়ে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়। মা ও সন্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরিবারগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নেয়।
তিনি চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, শুধুমাত্র চিকিৎসাগত প্রয়োজন থাকলেই সিজারিয়ান করা উচিত।
লাইসেন্স বাতিলের কঠোর সতর্কতা
মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে লেবার রুম স্থাপন করতে হবে।
যেসব প্রতিষ্ঠান সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে না, তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ এনআইডিতে নাম ও বয়স সংশোধনে নতুন নিয়ম, ৬ ক্যাটাগরির আবেদন সাময়িক স্থগিত
মিডওয়াইফ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ
সরকার সব বেসরকারি হাসপাতালে দক্ষ মিডওয়াইফ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
এর ফলে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়েই প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাবেন এবং নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছর স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাদের বড় একটি অংশ মিডওয়াইফ হিসেবে কাজ করবেন।
মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ
মন্ত্রী বলেন, অপুষ্টি, অল্প বয়সে বিয়ে এবং মায়েদের দুর্বল স্বাস্থ্য নবজাতকের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে গর্ভকালীন পরিচর্যা, দক্ষ মিডওয়াইফের সেবা এবং নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্টে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশে পার্সেল ডেলিভারি
এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব
এই নির্দেশনা কার্যকর হলে দেশের মাতৃস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
- সম্ভাব্য সুফলগুলোর মধ্যে রয়েছে
- স্বাভাবিক প্রসবের হার বৃদ্ধি
- অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান কমে আসা
- গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত হওয়া
- দক্ষ মিডওয়াইফদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
- মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো
উপসংহার
সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপনের সরকারি নির্দেশনা মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, মিডওয়াইফ এবং পরিবারের সদস্যদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ স্টারলিংককে ট্রানজিট হাবের অনুমোদন, দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্র হলো বাংলাদেশ
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


