প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অসন্তোষ এখনো কমেনি। সরকার আগে এই অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে অনেক গ্রাহক এখনো মিটার রিচার্জের সময় ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ এবং মিটার ভাড়া বাবদ অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ করছেন। ফলে প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত চার্জ বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করলেও পুরো অর্থ বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য পাওয়া যাচ্ছে না। প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত চার্জ হিসেবে বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে নেওয়ায় কার্যত বিদ্যুতের ব্যবহারযোগ্য ব্যালেন্স কমে যাচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। গ্রাহকদের অভিযোগ এবং পূর্বের সরকারি ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে শিগগিরই একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কেন এখনো প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত চার্জ কাটা হচ্ছে
সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন জানানো হয়, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বাস্তবে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো এখনো আগের নিয়মেই অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ এবং মিটার ভাড়া কেটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরকারি ঘোষণা এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এনআইডি হারালেই অনলাইনে নতুন কার্ড, থানায় জিডির ঝামেলা শেষ
রিচার্জ করেও পুরো টাকা ব্যবহার করতে পারছেন না গ্রাহকরা
রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ের একজন গ্রাহক সম্প্রতি ১৫০০ টাকা রিচার্জ করলেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য পেয়েছেন ১২৬৯ টাকা। বাকি ২৩১ টাকা বিভিন্ন চার্জ হিসেবে কেটে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে আরেক গ্রাহক মাত্র ৩০০ টাকা রিচার্জ করার পর ব্যবহারযোগ্য ব্যালেন্স হিসেবে পান ১৬২ টাকা। তার দাবি, প্রতি রিচার্জেই একইভাবে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুনঃ ২০২৭ সালে যেসব ব্যক্তি হজে যেতে পারবেন না জানাল ধর্ম মন্ত্রণালয়
বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যা কী
বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ জানিয়েছেন, গ্রাহকদের অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিষয়টি পর্যালোচনার পর দ্রুত একটি সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
অন্যদিকে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলমের মতে, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়া প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং সুশাসনের ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করে।
দেশে কতজন ব্যবহার করছেন প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার
বর্তমানে দেশে ৫ কোটিরও বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৭ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের আওতায় রয়েছেন। ফলে অতিরিক্ত চার্জ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


