রিসাইকেল সিম কি? নতুন সিম ও রিসাইকেল সিমের মধ্যে পার্থক্য

সিম রিসাইকেল হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত একটি মোবাইল নম্বর অপারেটর কর্তৃপক্ষ পুনরুদ্ধার করে নতুন গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে দেয়। বাংলাদেশে বিটিআরসির নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো সিম টানা নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার না করলে সেটি রিসাইকেলের জন্য বিবেচিত হয়।

নতুন সিম এবং রিসাইকেল সিমের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, নতুন সিমে আগের কোনো ব্যবহারকারীর তথ্য বা ডিজিটাল ইতিহাস থাকে না, কিন্তু রিসাইকেল সিমে আগের মালিকের ডিজিটাল কার্যকলাপের ছাপ থেকে যেতে পারে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন অপারেটরের জন্য রিসাইকেলের সময়সীমা ভিন্ন। রবি ও এয়ারটেলের ক্ষেত্রে ব্যালেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১১ থেকে ১২ মাস নিষ্ক্রিয় থাকলে সিম রিসাইকেল করা হয়। গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা প্রায় ১১ মাস। বাংলালিংক ১৩ মাস এবং টেলিটক ১৪ থেকে ১৫ মাস পর সিম রিসাইকেল করে থাকে।

নতুন সিম ও রিসাইকেল সিমের পার্থক্য

বিষয়নতুন সিমরিসাইকেল সিম
নম্বরের ইতিহাসসম্পূর্ণ নতুন, আগের কোনো ব্যবহারকারী নেইআগের ব্যবহারকারীর ডিজিটাল ইতিহাস থাকতে পারে
ওটিপি ও ভেরিফিকেশনকোনো সমস্যা হয় নাআগের মালিকের অ্যাকাউন্টের ওটিপি আসতে পারে
মোবাইল ব্যাংকিংসহজে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়আগের অ্যাকাউন্টের কারণে সমস্যা হতে পারে
সোশ্যাল মিডিয়ানতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যায়আগের অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত থাকতে পারে
প্রতারণামূলক কলসম্ভাবনা কমআগের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে কল আসতে পারে

আরও পড়ুনঃ ১ নভেম্বর থেকে নতুন দামে টেলিটক সিম, ফিজিক্যাল সিম ও ই-সিম রিপ্লেসমেন্ট ১০০ টাকা

রিসাইকেল সিমের ঝুঁকি

রিসাইকেল সিমের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো আগের মালিকের ডিজিটাল কার্যকলাপের সাথে যুক্ত থাকা। অনেক সময় আগের ব্যবহারকারী তাদের ব্যবহৃত নম্বর থেকে ব্যাংক অ্যালার্ট, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট আনলিংক করেন না। ফলে নতুন গ্রাহক সেই নম্বর কিনলে আগের মালিকের ওটিপি, ব্যাংক অ্যালার্ট বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পেতে থাকেন।

এছাড়া আগের মালিকের বিরুদ্ধে কোনো আইনি অভিযোগ থাকলে নতুন গ্রাহককে সেই অভিযোগের মুখোমুখি হতে হতে পারে। নাইজেরিয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে রিসাইকেল সিম কেনার কারণে এক নারীকে অপহরণ মামলায় আটক করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ গ্রামেও টেলিটকের নেটওয়ার্ক উন্নয়নের আশা, চালু হচ্ছে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড

কীভাবে রিসাইকেল সিম চেনা যায়

বাংলাদেশে কিছু অপারেটর তাদের ওয়েবসাইটে রিসাইকেল সিম চেক করার সুবিধা দেয়। রবি ও এয়ারটেলের ওয়েবসাইটে নম্বর দিয়ে চেক করা যায় সিমটি রিসাইকেল কিনা। তবে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের ক্ষেত্রে এই সুবিধা নেই।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, নতুন সিম কেনার সময় অপারেটরের নতুন সিরিজের নম্বর বেছে নেওয়া নিরাপদ। যেমন গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে ০১৩ সিরিজ এবং বাংলালিংকের ক্ষেত্রে ০১৪ সিরিজ নতুন সিম হিসেবে বিবেচিত হয়।

সিম রিসাইকেল থেকে বাঁচার উপায়

নিজের সিম রিসাইকেল হওয়া থেকে বাঁচতে নিয়মিত সিমটি ব্যবহার করতে হবে। মাঝে মাঝে কল, এসএমএস বা রিচার্জ করে সিম সচল রাখতে হবে। যদি সিম দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে অপারেটরের নির্ধারিত ফি দিয়ে মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিটিআরসির নিয়ম অনুযায়ী, ২ বছরের জন্য ৩০০ টাকা এবং ৩ বছরের জন্য ৪৭৫ টাকা ফি দিয়ে অব্যবহৃত সিমের মেয়াদ বাড়ানো যায়।

আরও পড়ুনঃ প্রাথমিকের ৩ লাখ ৮৩ হাজার শিক্ষক পাচ্ছেন একটি করে ট্যাব

নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

WhatsApp Group Join Now
ALL SIM Offer Update Group Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment