সবচেয়ে সৎ কোন দেশের মানুষ, আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ তথ্য

মানুষের সততা যাচাই করার নির্দিষ্ট কোনো মাপকাঠি নেই। তবে বাস্তব জীবনের ছোট ছোট ঘটনাই অনেক সময় একজন মানুষের নৈতিকতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। এমনই একটি গবেষণায় সবচেয়ে সৎ কোন দেশের মানুষ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হারানো ওয়ালেট ফেরত দেওয়ার প্রবণতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গবেষকদের মতে, সবচেয়ে সৎ কোন দেশের মানুষ তা নির্ধারণে মানুষের বাস্তব আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মতামত বা ধারণার পরিবর্তে বাস্তবে কেউ হারানো জিনিসের মালিককে খুঁজে ফেরত দেন কি না, সেটিই ছিল এই গবেষণার মূল ভিত্তি। এতে বিভিন্ন দেশের মানুষের নৈতিক আচরণের একটি তুলনামূলক চিত্র উঠে এসেছে।

তবে গবেষকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ফলাফল দিয়ে কোনো দেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীকে বিচার করা ঠিক হবে না। ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক পরিবেশ, আইন এবং সংস্কৃতিও মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আন্তর্জাতিক গবেষণায় সবচেয়ে সৎ দেশের তালিকায় কারা এগিয়ে

এই গবেষণা বিশ্বের ৪০টি দেশের ৩৫৫টি শহরে পরিচালিত হয়। গবেষকেরা ১৭ হাজারেরও বেশি ওয়ালেট বিভিন্ন ব্যাংক, হোটেল, ডাকঘর, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছে জমা দেন। প্রতিটি ওয়ালেটে পরিচয়পত্র, চাবি, ভিজিটিং কার্ড এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীতে পর্যবেক্ষণ করা হয়, কতজন ব্যক্তি ওয়ালেটের প্রকৃত মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেটি ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

ফলাফলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ওয়ালেট ফেরত দিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের মানুষ। এরপর রয়েছে নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সুইডেন, পোল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্স।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

অন্যদিকে পেরু, মরক্কো, চীন, তুরস্ক, কাজাখস্তান, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া এবং ঘানায় ওয়ালেট ফেরতের হার তুলনামূলক কম ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান ছিল মাঝামাঝি।

সবচেয়ে সৎ দেশের মানুষের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান

এই গবেষণায় বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে সবচেয়ে সৎ দেশের মানুষের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর পরিচালিত একটি আচরণগত গবেষণা। তাই এতে অংশ না নেওয়া কোনো দেশের জনগণের সততা সম্পর্কে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

আরও পড়ুনঃ ঢাকার সড়কে বসছে ১ হাজার প্লাগ অ্যান্ড প্লে ক্যামেরা

কিভাবে সবচেয়ে সৎ কোন দেশের মানুষ তা নির্ধারণ করা হয়

গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশে একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। গবেষকেরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচয়পত্র, চাবি, ভিজিটিং কার্ড এবং অর্থসহ ওয়ালেট জমা দেন। এরপর পর্যবেক্ষণ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মালিককে খুঁজে বের করে ওয়ালেট ফিরিয়ে দেন কি না।

যে দেশে যত বেশি ওয়ালেট মালিকের কাছে ফেরত গেছে, সেই দেশের মানুষের সততার হার তত বেশি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে বাস্তব আচরণের ভিত্তিতে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ সিরাজদিখানের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল নিষিদ্ধ

গবেষণায় আরও যেসব তথ্য উঠে এসেছে

গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। ওয়ালেটে অর্থের পরিমাণ বেশি থাকলে সেটি ফেরত দেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।

প্রায় ১৩ ডলার থাকা ওয়ালেটের ৫১ শতাংশ ফেরত এলেও প্রায় ৯৪ ডলার থাকা ওয়ালেটের ৭২ শতাংশ মালিকের কাছে ফিরে এসেছে। গবেষকদের মতে, অর্থের পরিমাণ বেশি হলে মানুষ মালিকের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি বেশি উপলব্ধি করেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অধিকাংশ মানুষ নিজেদের সৎ ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চান। তাই অনেক ক্ষেত্রেই অর্থের লোভের চেয়ে নিজের নৈতিক পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখার মানসিকতা বড় ভূমিকা পালন করে।

উপসংহার

আন্তর্জাতিক এই গবেষণা মানুষের বাস্তব আচরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। তবে এটি কোনো দেশের মানুষের সার্বিক চরিত্রের মূল্যায়ন নয়।

সবচেয়ে সৎ কোন দেশের মানুষ তা নিয়ে গবেষণার ফলাফল আগ্রহ তৈরি করলেও, গবেষকদের মতে মানুষের সততা নির্ভর করে ব্যক্তি, সমাজ, সংস্কৃতি এবং পরিস্থিতির ওপর। তাই এই ফলাফলকে একটি গবেষণালব্ধ পর্যবেক্ষণ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

আরও পড়ুনঃ এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ চূড়ান্ত

নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
ALL SIM Offer Update Group Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment