দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের ডিজিটাল জীবনযাত্রায় ইন্টারনেট কীভাবে নতুন সুযোগ তৈরি করছে, সেই গল্প তুলে ধরতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে গ্রামীণফোন। ১ বাংলাদেশ ১ ইন্টারনেট ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিক্ষা, যোগাযোগ, ব্যবসা, আয়, সৃজনশীলতা ও বিনোদনে ইন্টারনেটের ব্যবহারকে সামনে আনতে চায় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি।
শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করছে। ১ বাংলাদেশ ১ ইন্টারনেট ক্যাম্পেইনে তুলে ধরা হবে, কীভাবে একজন শিক্ষার্থী অনলাইনে পড়াশোনা করছেন, উদ্যোক্তা ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং তরুণরা কনটেন্ট তৈরি করে নতুন পরিচিতি ও আয়ের সুযোগ তৈরি করছেন।
গ্রামীণফোন জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কভারেজ সম্প্রসারণ এবং উন্নত প্রযুক্তিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগের অংশ হিসেবেই এই ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের বাস্তব ডিজিটাল অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইন্টারনেটভিত্তিক সুযোগগুলো আরও দৃশ্যমান করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ডিজিটাল বাংলাদেশের গল্প তুলে ধরবে ১ বাংলাদেশ ১ ইন্টারনেট
ইন্টারনেট এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষা গ্রহণ, দক্ষতা উন্নয়ন, অনলাইন ব্যবসা, আয়, কনটেন্ট তৈরি এবং বিনোদনসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে এর ব্যবহার বাড়ছে।
গ্রামীণফোনের নতুন ক্যাম্পেইনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের এমন বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে। একজন শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করছেন, একজন উদ্যোক্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করছেন কিংবা কোনো তরুণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজের তৈরি ভিডিও প্রকাশ করছেন, এসব গল্পের মাধ্যমে ইন্টারনেটের বাস্তব ব্যবহারকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, দেশের মানুষের প্রয়োজন ভিন্ন হলেও ডিজিটাল সংযোগ তাদের নতুন সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করছে। এই সংযোগের মাধ্যমে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং সৃজনশীলতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ প্রবাসী কার্ডে বিমান ভাড়া ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ ছাড়
প্রতিদিন ৩ লাখ ৫২ হাজার ঘণ্টার ভিডিও দেখা হয়
গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান ডেটা ব্যবহারের চাহিদা পূরণে নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে গ্রামীণফোন। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের নেটওয়ার্কে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার ঘণ্টা ভিডিও দেখা হয়।
এই সময়কে প্রায় ৪০ বছর ধরে একটানা ভিডিও দেখার সমপরিমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত মোট ডেটার ৫০ শতাংশের বেশি ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য ব্যবহার হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
ভিডিও ব্যবহারের এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে নেটওয়ার্কে লোকাল এজ ক্যাশিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে গ্রামীণফোন। এর মাধ্যমে জনপ্রিয় কনটেন্ট তুলনামূলক দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে ভিডিও স্ট্রিমিং ও অন্যান্য জনপ্রিয় অনলাইন কনটেন্ট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
আরও পড়ুনঃ এআই ক্যামেরায় শনাক্ত করতে মোটরসাইকেলের সামনেও বসাতে হবে নম্বর প্লেট
দেশজুড়ে ২৪ হাজারের বেশি টাওয়ার
নেটওয়ার্ক কভারেজ সম্প্রসারণে গ্রামীণফোনের বড় অবকাঠামো রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশজুড়ে ২৪ হাজারের বেশি টাওয়ার রয়েছে।
এই অবকাঠামোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নেটওয়ার্ক কভারেজ ও সংযোগ শক্তিশালী করার কাজ চলছে। দ্রুতগতির ও মানসম্পন্ন ইন্টারনেটের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি ও নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বিনিয়োগও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান বলেন, বাংলাদেশের কোটি মানুষের হাত ধরে ইন্টারনেটের নতুন গল্প এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, তরুণ উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল সংযোগের সুবিধা কাজে লাগাচ্ছেন।
তিনি বলেন, সিলেটের একজন শিক্ষার্থী যখন অনলাইনে ক্লাসে যুক্ত হন, রাজশাহীর একজন ব্যবসায়ী লাইভে এসে পণ্য বিক্রি করেন কিংবা ঢাকার কোনো তরুণ তার প্রথম ভিডিও প্রকাশ করেন, তখন ডিজিটাল সংযোগের বাস্তব গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ সৌদির আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া
কাউকে ডিজিটাল সুযোগ থেকে পিছিয়ে না রাখার লক্ষ্য
গ্রামীণফোনের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ বাংলাদেশ ১ ইন্টারনেট ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের ইন্টারনেটনির্ভর কর্মকাণ্ড এবং ডিজিটাল সুযোগের ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, দেশের কোনো মানুষ যেন ডিজিটাল সুযোগ থেকে পিছিয়ে না থাকেন। শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, উন্নত প্রযুক্তি ও বিস্তৃত সংযোগের মাধ্যমে শিক্ষা, ব্যবসা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ এবং সৃজনশীলতার সুযোগ আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
ইন্টারনেট ব্যবহার এখন প্রত্যেক মানুষের জন্য একেক রকম প্রয়োজন পূরণ করছে। কারও জন্য এটি পড়াশোনার মাধ্যম, কারও জন্য ব্যবসা ও আয়ের সুযোগ, আবার কারও জন্য বিনোদন কিংবা নিজের প্রতিভা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম।
আরও পড়ুনঃ মোবাইল কলের খরচ কমতে পারে, ফ্লোর প্রাইস কমানোর উদ্যোগ বিটিআরসির
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


