এআই ক্যামেরায় শনাক্ত করতে মোটরসাইকেলের সামনেও বসাতে হবে নম্বর প্লেট

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী মোটরসাইকেল সহজে শনাক্ত করতে এবার সামনের অংশেও নম্বর প্লেট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরায় মোটরসাইকেলের নম্বর শনাক্ত সহজ করতেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বেশির ভাগ মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট শুধু পেছনে থাকে। ফলে সামনের দিক থেকে চলন্ত মোটরসাইকেল শনাক্তে এআই ক্যামেরার সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। এআই ক্যামেরায় শনাক্ত করতে মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট বসানোর উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাই বিষয়টি পরীক্ষা করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

তবে নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মোটরসাইকেল চালক, বিক্রেতা ও উৎপাদনকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্নও উঠেছে। বর্তমান মডেলের মোটরসাইকেলে সামনে নম্বর প্লেট বসানোর নির্দিষ্ট জায়গা নেই। এর ফলে নকশা পরিবর্তন, বায়ুপ্রবাহ এবং ইঞ্জিনের কার্যকারিতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এআই ক্যামেরায় মোটরসাইকেল শনাক্তে সামনে নম্বর প্লেটের উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট বসানোর বিষয়টিও ছিল।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, ঢাকার বিভিন্ন সড়কে স্থাপিত এআই প্রযুক্তির ক্যামেরায় মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নম্বর সহজে শনাক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুনঃ সৌদির আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া

সামনে নম্বর প্লেট নিয়ে পরীক্ষা করতে গঠন করা হয়েছে কমিটি

মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট বসানোর বিষয়টি পরীক্ষা করে মতামত দিতে গত ১৩ আগস্ট সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিআরটিএ। কমিটিকে নম্বর প্লেটের আকার, কোথায় এটি বসানো হবে এবং এআই ক্যামেরা সেটি কার্যকরভাবে শনাক্ত করতে পারবে কি না, তা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

কমিটিতে বিআরটিএর সদর দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশল, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের তেজগাঁও অঞ্চলের উপপুলিশ কমিশনার, বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধি এবং অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি রয়েছেন।

এ ছাড়া টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সিবিইউ মোটরসাইকেল আমদানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং বিআরটিএর উপপরিচালক প্রকৌশলও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

দুই চাকার যান ছাড়া দেশের অন্যান্য যানবাহনে সামনে ও পেছনে নিবন্ধন নম্বরের প্লেট থাকে। বিআরটিএ এসব নম্বর প্লেট সরবরাহ করে এবং নিবন্ধন ফির মধ্যেই প্লেটের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আরও পড়ুনঃ মোবাইল কলের খরচ কমতে পারে, ফ্লোর প্রাইস কমানোর উদ্যোগ বিটিআরসির

বর্তমান মোটরসাইকেলে নম্বর প্লেট বসানো নিয়ে নানা প্রশ্ন

সামনে নম্বর প্লেট বসানোর সিদ্ধান্তের পর মোটরসাইকেল চালক, বিক্রেতা এবং উৎপাদনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দেশে এখনো অনেক মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নেই। আবার নিবন্ধিত অনেক মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট নষ্ট বা এমন অবস্থায় রয়েছে যে নম্বর সহজে পড়া যায় না।

এ ছাড়া কিছু চালক ট্রাফিক আইন না মেনে মোটরসাইকেল চালান এবং কেউ কেউ এমনভাবে পরিবর্তন করেন যাতে নম্বর প্লেট সহজে দেখা না যায়। ফলে শুধু সামনে নতুন প্লেট যুক্ত করলেই সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

উত্তরা মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিউর রহমান জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে সামনে ও পেছনে দুটি নম্বর প্লেট বসানোর কথা বলা হয়েছে। তবে প্লেটের নির্দিষ্ট আকৃতি বা আকার সম্পর্কে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

বর্তমান মডেলের অনেক মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট বসানোর জন্য আলাদা কোনো জায়গা নেই। ফলে প্লেট বসাতে হলে কিছু ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলের নকশায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ মোবাইল অপারেটরের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অভিযোগ ৬৬ হাজার ছাড়িয়েছে

বায়ুপ্রবাহ ও ইঞ্জিন গরম হওয়ার আশঙ্কা

মোটরসাইকেল খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, সামনের অংশে নম্বর প্লেট বসানোর আগে প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনো কোনো মডেলে প্লেট বসালে বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা তৈরি হতে পারে।

একটি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বেশি গতিতে চলার সময় সামনের অংশে অতিরিক্ত বাধা তৈরি হলে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এতে যানটি কেঁপে ওঠার আশঙ্কাও থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

হেডলাইটের নিচে বা রেডিয়েটরের সামনে নম্বর প্লেট বসানো হলে ইঞ্জিনে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। এতে ইঞ্জিন দ্রুত অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭০টি। দেশে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। তাই নতুন সিদ্ধান্তটি পুরোনো সব মোটরসাইকেলের জন্য প্রযোজ্য হবে, নাকি শুধু নতুন মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ ঢাকায় চালু হচ্ছে ১ টাকার বাইক সেবা

ঢাকার সড়কে এআই ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক মামলা

ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে গত ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরার সঙ্গে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার যুক্ত করা হয়েছে।

কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে সফটওয়্যারের সহায়তায় ক্যামেরা সেটি শনাক্ত করছে। পরে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিকের নামে ডিজিটালভাবে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৯ এপ্রিল ডিএমপি সদর দপ্তরে পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির এই সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। এরপর ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক মামলা হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। ৭ মে থেকে নির্ধারিত মোড়গুলোতে স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ।

বর্তমানে যানবাহনের নম্বর শনাক্তে এআইভিত্তিক পিটিজেড ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এই উন্নত নিরাপত্তা ক্যামেরা ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারে এবং চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে অনুসরণ করার সক্ষমতা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ব্রডব্যান্ড খাতে আসছে বড় পরিবর্তন, বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ

নম্বর প্লেটের বিকল্প হিসেবে আরএফআইডি ব্যবহারের পরামর্শ

সড়ক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু ক্যামেরাভিত্তিক পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন বা আরএফআইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা আরও কার্যকর হতে পারে।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হকের মতে, প্রতিটি গাড়িতে আরএফআইডি চিপ বা ট্যাগ থাকলে দূর থেকেই সেটি শনাক্ত করা সম্ভব। গাড়ির নম্বর প্লেট কাপড় বা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে ঢেকে রাখা সম্ভব হলেও রেডিও তরঙ্গকে একইভাবে আড়াল করা কঠিন।

তিনি মনে করেন, মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট বসানো হলেও ঘন যানজটের পরিস্থিতিতে ক্যামেরার মাধ্যমে গাড়ি শনাক্তের সীমাবদ্ধতা থেকে যেতে পারে। বাম্পার টু বাম্পার অবস্থায় একটি গাড়ির সঙ্গে অন্য গাড়ি খুব কাছাকাছি থাকলে নম্বর শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

আরএফআইডি প্রযুক্তিতে গাড়ির নির্দিষ্ট স্থানে একটি বিশেষ ট্যাগ যুক্ত থাকে। ওই ট্যাগে থাকা স্বতন্ত্র পরিচয় নম্বর কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে গাড়ির নিবন্ধনসহ অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়।

সড়কের পাশে, টোল প্লাজা বা প্রবেশপথে স্থাপিত রিডার নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে আসা গাড়ির ট্যাগ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এর মাধ্যমে দ্রুত গাড়ি শনাক্ত করার পাশাপাশি কোন সময় কোন স্থানে গাড়িটি চলাচল করেছে, তার তথ্যও সংরক্ষণ করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ ট্রেড লাইসেন্স এবার পাঁচ বছরের জন্য নবায়নের সুযোগ দিচ্ছে ডিএসসিসি

নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
ALL SIM Offer Update Group Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment