৬ বছর থেকে এনআইডির পরিকল্পনা, ১৮ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ৬ বছর বয়স থেকেই শিশুদের নিবন্ধনের আওতায় এনে এনআইডি দেওয়া হতে পারে। এরপর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা আলাদা আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

বর্তমানে ১৬ বছর বয়স থেকে এনআইডি নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিটি নাগরিক জন্মের পর থেকেই একটি স্থায়ী পরিচয় ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এতে নাগরিক সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে এনআইডি সংশোধনের প্রয়োজনও অনেক কমে যাবে।

এই উদ্যোগকে দেশের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি এখনো পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে, তবুও এটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি বিভিন্ন কাজে নাগরিকদের জন্য নতুন সুবিধার দ্বার খুলে যাবে।

৬ বছর বয়স থেকেই এনআইডি দেওয়ার পরিকল্পনা কেন

নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিককে একটি স্থায়ী পরিচয় নম্বরের আওতায় নিয়ে আসা। বর্তমানে অনেকেই দেরিতে এনআইডি করেন বা তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হয়। ছোটবেলা থেকেই নিবন্ধন সম্পন্ন হলে এই সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে আসবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিশুদের তথ্য সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় আগে থেকেই সংরক্ষিত রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে নিবন্ধন করলে আলাদা করে বড় ধরনের তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। এতে পুরো প্রক্রিয়াও সহজ হবে।

এনআইডির মাধ্যমে একজন নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একই পরিচয় বজায় রাখার পরিকল্পনাই মূল লক্ষ্য। ফলে ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি সব সেবায় একই পরিচয় নম্বর ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

১৮ বছর হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিশুরা ছোটবেলায় এনআইডি পেলেও ভোটার হবেন না। তারা শুধু জাতীয় পরিচয় নিবন্ধনের আওতায় থাকবে।

বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনো নতুন আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়ে যাবে। এতে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে।

নির্বাচন কমিশনের মতে, এতে ভুয়া তথ্য দিয়ে ভোটার হওয়ার সুযোগও অনেক কমে যাবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা আরও হালনাগাদ ও নির্ভুল রাখা সহজ হবে।

আরও পড়ুনঃ মাঠ পর্যায়ে হবে এনআইডি সংশোধন, সহজ হচ্ছে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন

শিশুদের বায়োমেট্রিক তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে

ছোট শিশুদের আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য পুরোপুরি স্থায়ী হয় না। এজন্য শুরুতে তাদের মৌলিক পরিচয় তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।

পরবর্তীতে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য হালনাগাদ করা হবে। বর্তমানে এনআইডি আইনে প্রতি ১৫ বছর পর তথ্য নবায়নের বিধান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে দীর্ঘমেয়াদে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের কী সুবিধা হবে

অনেক শিক্ষার্থী ১৮ বছরের আগেই বিদেশে পড়াশোনা, ব্যাংক হিসাব খোলা, পাসপোর্ট তৈরি কিংবা চিকিৎসার জন্য এনআইডির প্রয়োজন অনুভব করেন।

৬ বছর থেকেই এনআইডি থাকলে এসব সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবাও দ্রুত পাওয়া যাবে।

একটি স্থায়ী পরিচয় নম্বর থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং আর্থিক সেবার তথ্য সমন্বয় করাও সহজ হবে।

আরও পড়ুনঃ এবার এআই ক্যামেরার আওতায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক, বাড়ছে নিরাপত্তা ও স্মার্ট নজরদারি

নির্বাচন কমিশন কী বলছে

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের একটি পরিকল্পনা। এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তাদের মতে, পুরো দেশকে একটি একক পরিচয় ব্যবস্থার আওতায় আনতে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা চলছে। বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় আইন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো প্রস্তুত করা হবে।

অন্যদিকে সাবেক নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারাও মনে করছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি দেশের জন্য একটি কার্যকর উদ্যোগ হবে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে

দেশের সব শিশুর তথ্য একই মানদণ্ডে সংগ্রহ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তা এবং নিয়মিত হালনাগাদ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া স্কুলবহির্ভূত শিশুদের নিবন্ধনের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হবে। তথ্য যাচাই, বায়োমেট্রিক আপডেট এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোও প্রয়োজন হবে।

তবে নির্বাচন কমিশনের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ রাজধানীর ১২০ মোড়ে বসছে সেমি অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

৬ বছর বয়সেই কি শিশু ভোটার হবে?

না। ৬ বছর বয়সে শুধু এনআইডি নিবন্ধন করা হবে। ভোটার হওয়ার বয়স ১৮ বছরই থাকবে।

১৮ বছর হলে কি আবার আবেদন করতে হবে?

না। পরিকল্পনা অনুযায়ী বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শিশুদের বায়োমেট্রিক তথ্য কি সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হবে?

প্রাথমিকভাবে মৌলিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। বয়স উপযোগী হলে পূর্ণাঙ্গ বায়োমেট্রিক তথ্য হালনাগাদ করা হবে।

বর্তমানে কত বছর বয়স থেকে এনআইডি দেওয়া হয়?

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ১৬ বছর বয়স থেকে নিবন্ধন করা যায়।

এই সিদ্ধান্ত কি এখনই কার্যকর?

না। এটি এখনো নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর কার্যকর হবে।

উপসংহার

৬ বছর বয়স থেকেই এনআইডি দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আসবে। এতে নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচয় ব্যবস্থাপনা আরও সহজ, নির্ভুল এবং আধুনিক হবে।

তবে এই উদ্যোগ সফল করতে প্রয়োজন যথাযথ প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, তথ্য নিরাপত্তা এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল নাগরিক সেবা আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুনঃ ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, কঠোর পদক্ষেপ সরকারের

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
ALL SIM Offer Update Group Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment