বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন | বক্তব্য শুরুতে কি বলতে হয়

বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন, কিভাবে বক্তব্য শেষ করবেন, শ্রোতাদের আগ্রহি করে তোলা ইত্যাদি অনেক গুরুত্বপূর্ণ টপিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে আজকের এই পোস্টে।

একটা সুন্দর ও ভালো মানের বক্তব্যের জন্য কি কি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। কিভাবে হাজার হাজার মানুষের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবেন। নিজের কনফিডেন্স লেভেলকে হাই করবেন তা আপনার জানা জরুরী।
বর্তমানে স্মার্ট ক্যরিয়ার গড়তে শুধু পুথিগত বিদ্যাই যথেষ্ট নয়, আউট অফ বুক পড়ার বিষয় হিসেবে বক্তব্য কেউ আপনি আপনার সঙ্গী করতে পারেন।।

সঠিকভাবে বক্তব্য প্রদান করতে চাইলে আপনার প্রয়োজন সাবলীভাবে কথা বলার যোগ্যতা। সুন্দর এবং মার্জিত কথা ক্যরিয়ারে নিয়ে আসবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। নিম্নোক্ত কৌশল অনুসরণ করে আপনিও সাবলীল্ভাবে কথা বলা বা বক্তব্য দিতে পারেন অনায়াসে।

বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন | বক্তব্য শুরুতে কি বলতে হয়

বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন বক্তব্য শুরুতে কি বলতে হয়
বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন বক্তব্য শুরুতে কি বলতে হয়

ভালো বক্তা হতে হলে অনুশীলনের বিকল্প নেই। এজন্য আয়না বা ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে চর্চা করা যেতে পারে।

কথা বলার সময় এলোমেলো ভাবে কথা না বলে সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে।

প্রয়োজনে বক্তব্যের কাঠামো পূর্বে দাঁড় করিয়ে নিতে হবে। বক্তব্য সুনির্দিষ্ট এবং সিমিত বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।

বক্তৃতায় সবসময়ই আরও ভালো করার জায়গা থাকবে। তোমার
কাছ থেকে কেউ নির্ভুল বক্তৃতা আশা করে না।

তবে তুমি যদি বক্তব্য তৈরি করার পেছনে যথেষ্ট সময় দাও, তাহলে ভালো বক্তৃতা দেওয়া তোমার জন্য সহজ হবে।

তাই, আজ থেকেই সাবলীল বক্তা হওয়ার জন্য অনুশীলন শুরু করে দাও!
ভালো বক্তা হবার উপায় জনতে, ভালো ভালো বক্তাদের বক্তৃতা শুনুন এবং রিডিং পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সাথে ভালো শ্রোতা হোন। কারণ ভালো বক্তা হবার আগে ভালো শ্রোতা হওয়াটা খুব জরুরি।

সেই সাথে ভালো বক্তা হতে হলে অনুশীলনের বিকল্প নেই। তবে বক্তৃতা কপি করার জিনিস নয়।

বক্তব্য যে বিষয়ের উপর দিতে হবে, সে সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখা জরুরি। ওটা প্রয়োজন ও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে বানিয়ে নিতে হয়।

আত্মবিশ্বাসের সাথে বিষয় ঠিক রেখে কথা বলতে হবে। প্রথমেই দশর্কের মনোযোগ আকর্ষণ করতে গতানুগতিকভাবে বক্তব্য সুরু না করে চমকপ্রদ কোনো তথ্য বা অসাধারণ কিছু বলে বক্তব্য শুরু করতে হবে।

কিভাবে বক্তব্য প্রস্তুতির করবেন – বক্তব্য অনুশীলন করার নিয়ম

১) বক্তব্যের বিষয় ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ
২) শ্রোতা মনযোগ আকর্ষন
৩) বিষয়ের গবেষণা
৪) গবেষণা লিপিবদ্ধ করা এবং প্রধান দিকগুলো সনাক্ত করা
৫) প্রধান বিষয়গুলোর উপর জোর দেওয়া
৬) বক্তব্যের উপাদানগুলো সুসংগঠিত করা
৭) ভাষা সচেতনতা/বক্তব্যের ভাষাকে শ্রুতি মধুর করা
৮) উপসংহার এবং ভূমিকা প্রস্তুতি

বক্তব্যের বিষয় নির্ধারণ

যে বিষয়ে বক্তব্য দেয়া হবে প্রথমে সেটি নির্বাচন করতে হবে। যে বিষয়ে বক্তব্য দিবেন সেই বিষয়ে উপরে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে।

শ্রোতার মনযোগ আকর্ষন

  • গল্প বা মজার কিছু বলুন
  • আমরা কেউ তথ্যবহুল কথা শুনতে চাই না। তাই গল্পের ফ্রেমে যদি নিজের বক্তব্য পৌঁছে দেয়া যায়, তাহলেই শ্রোতার দৃষ্টি আকর্ষণ সম্ভব।
  • আই কন্টাক্ট বজায় রাখুন।
  • অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দিন।
  • বক্তব্যে হিউমর যোগ করুন।
  • শ্রোতাকে হাসান।
  • আলোচনা দীর্ঘ করবেন না।
  • কথার মাঝে বিরতি নিন।
  • একটানা বই পড়ার মত বলা থেকে বিরত থাকুন।
  • শুদ্ধ উচ্চারণ বজায় রাখুন।

বক্তব্যে ভাষার ব্যবহার

বক্তব্যের মূল কথাগুলো এবং যেসব উপাদানের সাহায্যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে সেগুলোর ভাষা এমন হতে হবে যেন শ্রোতারা তা তাৎক্ষণিক বুঝতে পারে।

শ্রোতারা একবারই বক্তার বক্তব্য শুনবে। কাজেই সবকথা অত্যন্ত সহজভাবে, সহজ ভাষায় বলতে হবে, যাতে শ্রোতা সহজে শুনতে এবং বুঝতে পারে।

বক্তব্যে কী বলছো, তার সাথে সাথে কীভাবে বলছো, সেটাও সমান গুরুত্ব বহন করে।

কথা বলার সময় গলার স্বর কখন উঠাতে হবে এবং কখন নামাতে হবে, সে ব্যাপারে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে।

একইভাবে কথা বলে গেলে দর্শক বক্তব্য শোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এজন্য গলার স্বরে তারতম্য এনে দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে হবে।

এর ফলে তোমার আইডিয়াগুলো দর্শক খুব সহজেই বুঝতে পারবে। এজন্য বক্তাকে নিম্নোক্ত বিষয়ে মনযোগী হওয়া প্রয়োজন- স্বচ্ছ কথা বলা বক্তৃতার ক্ষেত্রে প্রাথমিক অর্জন।

যেকোনো কথা সঠিক শব্দ ব্যবহারে সহজ ভাবে বলার চেষ্টা করতে হবে ভাষার জটিলতা পরিহার করতে হবে।

ভালো বক্তা হতে গেলে অপ্রয়োজনীয় কথা বাদ দিয়ে মূল কথা বলতে হবে।

বক্তব্য স্বচ্ছ করার জন্য নিম্নে কিছু দিক নির্দেশনা দেওয়া হল-

বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন এই বিষয়ে চিন্তা না করে, নিজের বক্তব্যের বিষয় নিয়ে চিন্তা করুন বক্তব্যে আপনি কি বললে আপনার বক্তব্য সৌন্দর্যমন্ডিত হবে এটাই আপনার মূল বিষয় স্টেজে যাওয়ার পর কি হবে না হবে এ নিয়ে চিন্তা করার কোন প্রয়োজন নেই।

শব্দের অপচয় যেন না হয়, পুনরুক্তি ও অর্থহীন শব্দ ব্যবহারে বিরত থাকতে হবে।

যেমন- সবাই মিলে এক সাথে, সম্পূর্ণ এবং পরিপূর্ণ প্রতিবেদন ইত্যাদি পুনরুক্তি বাদ দিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রেজাল্ট দেখার নিয়ম 2022

তাপ সঞ্চালন কাকে বলে | তাপ ও তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য

প্রধান দিকগুলো সনাক্ত করা

নিজের বক্তব্যের জন্য কাঠামো দাঁড় করাও। বক্তব্যের ধাপগুলো লিখে রাখো। প্রথমেই বিষয়টির নাম লিখে রাখো, তারপর বিষয়টির কোন কোন দিক নিয়ে তুমি কথা বলতে চাও, তা লিখে ফেলো।

তোমার শ্রোতার মনোযোগ বক্তব্যের প্রথম ৩০ সেকেন্ডেই আকর্ষণ করার দিকে জোর দাও।
শ্রোতারা যেসকল বিষয় পছন্দ করে না সেগুলোর দিকে খেয়াল রাখুন। যেসকল বিষয় শ্রোতারা পছন্দ করে না তা হলো, বক্তব্যে মাত্রাতিরিক্ত উদাহার দিবেন না।

সব সময় পজেটিভ কথা বলুন। কারন নেগেটিভ কথা বক্তব্যে শ্রোতা কখনোই পছন্দ করে না।

বচন ভঙ্গির এবং অঙ্গভঙ্গির দিকে খেয়াল রাখুন। অসামঞ্জস্য পূর্ন বচন ভঙ্গি বা অঙ্গ ভঙ্গি আপনাকে অপ্রস্তুত বা শ্রোতাদের অমনোযোগী করে দিতে পারে।

অযুহাত এবং অভিযোগ পরিহার করুন।

কাওকে ছোট বা হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করবেন না। এতে আপনার বক্তব্যে শ্রোতা মনোযোগ হারাবে।

নিজেকে অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ বোঝানোর চেষ্টা করবেন না। বরং আপনার বক্তব্যের মধ্যেই নিজের ব্যাক্তিত্য তুলে ধরুন!

রাজনৈতিক বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন

স্কুল কলেজের জন্য প্রদান করা বক্তব্য এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রদান করা বক্তব্যের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এছাড়াও বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য স্কুলে প্রদান করা বক্তব্যের প্রেক্ষাপটও সম্পূর্ণ ভিন্ন। 

তবে বক্তব্য যে ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য হোক না কেন আপনার বাচনভঙ্গি এবং আপনার সাবলীল ভাষার ব্যবহারই আপনার বক্তব্যকে সৌন্দর্যমন্ডিত করবে।

আপনার বক্তব্যটি দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত হোক শেষ করার পূর্ব কিছু মঙ্গল সূচক এবং ভাল কথা বলুন। কোন প্রতিষ্ঠানের হলে তার উন্নতি কমনা করুন বা কোন ব্যাক্তির হলে তার সফলতা এবং সমৃদ্ধি কামনা করুন।

সর্বোপরি শ্রোতাদের মনে আশা জাগানো কথা বলুন। এবং আপনার বক্তব্যটি শেষ করুন।

বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য দেয়ার নিয়ম

আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের এই ব্লগে বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি আপনি চাইলে আমাদের ওই পোস্টটি পড়ে আসতে পারেন।

২৬ শে মার্চ এর বক্তব্য

26 শে মার্চ সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে হবে। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস জানা থাকলে আপনি আপনার টপিকের উপর ভিত্তি করে আপনি কোন বিষয়গুলো উপস্থাপন করবেন বা কোন বিষয়টি আপনার সবচেয়ে ভালো মনে থাকে ওই বিষয়গুলো নিয়ে আপনার বক্তৃতা দেবেন।

তবে আমরা চেষ্টা করব আরও একটি পোস্ট তৈরী করার জন্য যেখানে শুধু 26 শে মার্চ সম্পর্কে বক্তব্য বিষয়ে আলোচনা ও পিডিএফ আকারে দেয়া হবে। 

জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য

জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য সম্পর্কে অনেকেই গুগল করে থাকেন।  তবে আপনাদের বলছি আপনারা বাঙালি জাতির ইতিহাস সঠিকভাবে পড়ুন।

তবেই সঠিকভাবে জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন।

এতে আপনার কোন সমস্যা হবে না আপনি শুধু বক্তব্য দেয়ার ধরন গুলো অনুসরণ করবেন সহজেই নিজের বক্তব্য প্রকাশ করবেন।

বিজয় দিবসের বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন

“লক্ষ বাঙালির রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা বৃথা যেতে পারে না।”

“মুক্তিকামী বাঙালির সেনারা তোমরা জীবন দিয়েছো আমরাও আমাদের সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করবো এই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের উন্নয়নে”

তোমাদেরই প্রতিদান বৃথা যেতে পারে না” এমন সব শব্দগুচ্ছ নিয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠে আপনা আপনি আপনার বক্তব্য উপস্থাপন করবেন বিশেষ করে যখন বিজয় দিবসের বক্তব্য পেশ করবেন।

তবে আমি চেষ্টা করব বিজয় দিবসের নিয়ে সম্পূর্ণ একটি নতুন পোস্ট তৈরী করার জন্য।

যেখানে আপনাদের চমকপ্রদ কিছু শব্দের সাথে পরিচয় করে দিব, যে শব্দ গুলি ব্যাবহারে বিজয় দিবসের বক্তব্য প্রচারে আপনি খুঁজে পাবেন নতুনত্ব।

আরো পড়ুনঃ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের উদ্দেশ্য কি?

যৌথ মূলধনী কোম্পানির অর্থায়নের কার্যাবলী কি

ফিফা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন তালিকা 2022 | FIFA World cup winner list

বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন FAQS

বক্তব্য দেয়ার প্রস্তুতি ও বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন?

ভালো বক্তা হতে হলে অনুশীলনের বিকল্প নেই। এজন্য আয়না বা ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে চর্চা করা যেতে পারে। তারপর আপনি যে বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করতে চাচ্ছেন ওই বিষয়ের উপর একটি রূপরেখা তৈরি করুন  এবং  বক্তব্যের প্রয়োজনে সঠিক শব্দগুলো নোট করুন এবং আপনার বক্তব্যে ব্যবহার করুন।

বক্তব্য শুরুতে কি বলতে হয়?

বক্তব্য শুরুতে কি বলতে হবে এই বিষয়ে চিন্তা না করে, নিজের বক্তব্যের বিষয় নিয়ে চিন্তা করুন। বক্তব্যে আপনি কি বললে আপনার বক্তব্য সৌন্দর্যমন্ডিত হবে তা ভাবুন এবং বক্তব্যবের শুরুতে কিছু চমকপ্রদ শব্দ ব্যাবহার করে সবার মনোযোগ আকরশন করুন।

উপসংহার

আশা করি আপনি বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন? এই সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

মনে রাখবেন বক্তব্য একটি কলাবা শিল্পের মতো। আপনি যত বেশি চর্চা করবেন আপনার বক্তব্য তথ্য সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হবে। 

তবে জীবনে প্রথমবার বক্তব্য দেওয়ার সময় অনেকেই সমস্যায় পড়তে হয় এ বিষয়ে খুব বেশি চিন্তা করবেন না।

শুধু আপনার নির্দিষ্ট বিষয়টাকে ফোকাস করবেন যে, আপনি কোন বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছেন।

আপনার বক্তব্যের মধ্যে এবং আমাদের এখানে উল্লেখিত পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনি বক্তব্যকে তিন থেকে চারটি ভাগে বিভক্ত করতে পারেন।

আপনি যদি চারটি ভিন্ন ভিন্ন অংশকে সুন্দরভাবে টটস্থ করুন এবং সাবলীল ভাষায় সঠিক নিয়মে বাচনভঙ্গি সহ বলতে পারেন তবে, একসময় আপনি ভালো বক্তা হয়ে যাবেন।

নতুন নতুন সব আপডেট জানতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

Leave a Comment

fifteen − fourteen =