বাংলাদেশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এবার আরও কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার এবং অন্যান্য অননুমোদিত শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার প্রকাশিত বিআরটিএর জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অননুমোদিত হর্ন ব্যবহারের কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শব্দদূষণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এটি শুধু জনদুর্ভোগই সৃষ্টি করছে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ শব্দমাত্রার তুলনায় ঢাকার শব্দমাত্রা অনেক বেশি। তাই শব্দদূষণ কমাতে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
Content Summary
হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটারের বিরুদ্ধে বিআরটিএর জরুরি বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২ এর বিধি ৮১ অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং রাষ্ট্রের জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার বা বিকট শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সম্প্রতি অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য যানবাহনে অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে বিআরটিএ সবাইকে অবিলম্বে এসব হর্ন অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাইড্রোলিক হর্ন কি
হাইড্রোলিক হর্ন হলো এমন একটি উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করা হর্ন, যা সাধারণ গাড়ির হর্নের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র, কর্কশ এবং দূর পর্যন্ত শোনা যায়।
এই ধরনের হর্ন সাধারণত বড় ট্রাক বা বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত যানবাহনের জন্য তৈরি হলেও অনেক ব্যক্তিগত যানবাহনে অবৈধভাবে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর শব্দ মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সড়কে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ কোথায় হবে, জেনে নিন আয়োজক দেশ ও ভেন্যুর বিস্তারিত
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার কেন নিষিদ্ধ
সরকারের মতে, হাইড্রোলিক হর্নের অতিরিক্ত শব্দ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘ সময় এমন শব্দের মধ্যে থাকলে মানুষের শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ রোগীদের জন্য এ ধরনের শব্দ আরও বেশি ক্ষতিকর। তাই আইন করে অননুমোদিত হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
হুটার কি?
হুটার হলো এমন একটি বিশেষ সতর্কীকরণ শব্দযন্ত্র, যা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পথ পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশে সাধারণত অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকারী যানবাহন এবং রাষ্ট্রের জরুরি নিরাপত্তা বাহিনীর যানবাহনে হুটার ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে অনুমতি ছাড়া হুটার ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
আরও পড়ুনঃ পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি
শব্দদূষণ কেন বড় সমস্যা
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শব্দ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে নিরাপদ শব্দমাত্রা ৫৫ ডেসিবেল হলেও রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকায় শব্দমাত্রা ১১৯ থেকে ১২৫ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির প্রতিবেদনে ঢাকাকে বিশ্বের অন্যতম শব্দদূষিত শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোন কোন যানবাহনে হর্ন ব্যবহারের বিশেষ অনুমতি রয়েছে
আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র নিচের যানবাহনগুলো বিশেষ ধরনের হর্ন বা হুটার ব্যবহার করতে পারবে।
অ্যাম্বুলেন্স
রোগী পরিবহনের সময় জরুরি ভিত্তিতে চলাচলের জন্য।
ফায়ার সার্ভিস
অগ্নিকাণ্ড বা উদ্ধার অভিযানের সময়।
উদ্ধারকারী যানবাহন
জরুরি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সরকারি যানবাহন।
রাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্বে ব্যবহৃত যানবাহন
নির্ধারিত সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত যানবাহন।
আরও পড়ুনঃ ব্যাংক থেকে নিজের টাকা তুলতেও দিতে হতে পারে ফি, ১৪ সেবায় নতুন চার্জের প্রস্তাব
নির্দেশনা অমান্য করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে
বিআরটিএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অননুমোদিত হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার বা বিকট শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্র ব্যবহার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর মধ্যে জরিমানা, মামলা কিংবা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ডিএমপির নতুন নির্দেশনা
এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীর নীরব এলাকাগুলোতে স্পষ্ট সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করতে ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশ দেয়।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকায় শব্দদূষণ কমানো।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে চলবে বুলেট ট্রেন, জানালেন চীনা রাষ্ট্রদূত
সাধারণ জিজ্ঞাসা
না। সাধারণ মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বৈধ নয়।
শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকারী যানবাহন এবং রাষ্ট্রের অনুমোদিত জরুরি যানবাহন।
শব্দদূষণ কমানো এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ, হৃদরোগ এবং শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উপসংহার
হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটারের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান দেশের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আইন মেনে শুধুমাত্র অনুমোদিত যানবাহনে বিশেষ হর্ন ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে নগর জীবনে শব্দদূষণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
তাই সকল যানবাহনের মালিক ও চালকদের উচিত অননুমোদিত হর্ন অপসারণ করে আইন মেনে চলা।
আরও পড়ুনঃ গণপরিবহন আধুনিকায়নে ১৪০০ বৈদ্যুতিক বাস আনছে সরকার
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


