দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ও কলসেবার মান নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে ১০৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯১তম। দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতি মাত্র ৪৩ এমবিপিএস, যেখানে ভিয়েতনামে এই গতি ১৮৮ এমবিপিএস।
শুধু ধীর গতিই নয়, কলড্রপও এখন নিত্যদিনের সমস্যা। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে কলড্রপ ও সেবার মান নিয়ে ৬৬ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। ঘনবসতি, উঁচু ভবন এবং স্পেকট্রামের ঘাটতিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেটওয়ার্ক মানে পিছিয়ে বাংলাদেশ
ওকলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ঢাকা বিভাগে মোবাইল ডাউনলোডের গড় গতি ছিল ৩৪ দশমিক ৪৪ এমবিপিএস। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগে এই গতি মাত্র ২২ দশমিক ৫৭ এমবিপিএস। অর্থাৎ ঢাকার গতি বরিশালের চেয়ে প্রায় ৫৩ শতাংশ বেশি।
শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার গতি ৪১ দশমিক ৯৩ এমবিপিএস। নারায়ণগঞ্জে এই গতি সবচেয়ে কম, ২৯ দশমিক ৪ এমবিপিএস। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্কের মান আরও খারাপ।
কলড্রপে অতিষ্ঠ গ্রাহক
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর, গাবতলী ও উত্তরার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কথা বলার সময় হঠাৎ সংযোগ কেটে যাচ্ছে। কখনো কল রিসিভের ৩ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই কেটে যাচ্ছে। বারবার কল করতে হচ্ছে, ফলে বাড়তি খরচও গুনতে হচ্ছে।
বিটিআরসির মূল্যায়নে চারটি অপারেটরের মধ্যে বাংলালিংকের ২জি ভয়েস কলে কলড্রপের হার সবচেয়ে বেশি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবার মান শহরের চেয়ে আরও খারাপ।
দাম বাড়ছে, সেবার মান বাড়ছে না
সম্প্রতি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে ৫০০ টাকার সংযোগে গ্রাহককে অতিরিক্ত ৭৭ টাকা ৫৫ পয়সা দিতে হবে। ১ হাজার টাকার সংযোগে বাড়তি দিতে হবে ১৫৫ টাকা।
মোবাইল রিচার্জেও করের বোঝা বাড়ছে। ১০০ টাকা রিচার্জে কর বাবদ কাটা পড়ছে ৫৬ টাকা। অর্থাৎ গ্রাহক মাত্র ৪৩ টাকা ৭০ পয়সা ব্যবহার করতে পারছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নেটওয়ার্কের মান উন্নত না করেই দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা তৈরি হবে।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


