চেক লেখার নিয়ম । না জানলে সব হারাতে পারেন Bank Cheque

চেক লেখার নিয়ম সম্পর্কে আপনি জানেন কি? বিগত দিন গুলি থেকে এখন পর্যন্ত টাকা পয়সা রাখা এবং নির্ধারিত মুনাফা পেতে অন্যতম ভরসার নাম ব্যাংক। দেশে সরকারি বেসরকারি কয়েকশো ব্যাংক আছে যারা দেশের সধারন জনগণকে বছরের পর বছর ননস্টপ সার্ভিস দিয়ে আসছে। ব্যাংকে টাকা রেখে চিন্তাহীন মুনাফা অর্জন করছে সাধারন জনগন।

বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তলন করতে চেক দিতে হয়, তাই চেক লেখার নিয়ম জানাও জরুরী।

মুলত ব্যাংক চেক লেখার নিয়ম না জানলে সব হারাতে পারেন বা আপনার সমস্যা হতে পারে।

Bank Cheque লেখার ক্ষেত্রে আপনি সর্বচ্ছো সতর্ক থাকুন। এক্ষেত্রে সর্বাধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলো।

অন্যদিকে এই নিরাপত্তাকে শতভাগে রুপ দিতে ব্যাংকের গ্রাহক হিসেবে আপনি আমি যারা বিভিন্ন ব্যাংকের সাথে লেনদেনে সম্পর্কিত আমাদের কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলা উচিত।

এতে করে আমাদের অর্থ শতভাগ নিরাপত্তার সাথে ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের কাছে গচ্ছিত থাকবে।

একটি ব্যাংক সবসময় চায় গ্রাহককে সর্বাধিক সেবা নিশ্চিত করতে। যার কিছু দায়িত্ব ব্যাংক গ্রাহক হিসেবে আমাদের উপরও বর্তায়। 

আজকে আমরা জানার চেষ্টা করবো, একজন ব্যাংক গ্রাহকের উপর ব্যাংকের পর তার টাকা বা সম্পদের নিরাপত্তায় ব্যক্তির নিজের কি কি দায়িত্ব ও করণীয় আছে।

বিশেষ করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তলনের সময় চেক লেখার বিষয়ে। ব্যাংকে হিসাব খুললেই একটি চেক প্রদান করা হয়।

পরবর্তীতে সকল লেনদেন সাধারণত ওই চেকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। চেকের গায়ে টাকার সংখ্যা, গ্রাহক, প্রাপক, টাকার সংখ্যা বাংলায়, চেকের নাম্বার সংখ্যা লেখার অপশন থাকে।

এর সব তথ্য পূরণ করলে তবেই একটি চেক পুরোপুরি শতভাগ  সঠিক ভাবে লেখা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। 

কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্যাংকের চেক লেখার সঠিক নিয়ম

ব্যাংক চেক লেখার নিয়ম
ব্যাংক চেক লেখার নিয়ম

এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানতে পারবো সোনালি ব্যাংকের চেক লেখার নিয়ম থেকে অগ্রানি, ইসলামী, কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংকের চেক লেখার নিয়ম, পূবালী ব্যাংকের চেক লেখার নিয়ম এমনকি ক্রোস চেক লেখার নিয়ম। 

ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে চেক লেখার নিয়ম হচ্ছে নিজ একাউন্ট নম্বর, তারিখ, টাকার পরিমাণ অংকে ও কথায় সঠিক ভাবে লিখতে হবে।

ব্যাংক আপনাকে হাজারো নিরাপত্তা দিলেও আপনি নিজে যদি এই ব্যপারে উদাসিন থাকেন তাহলে আপনি টেরও পাবেন না কখন আপনার ব্যাংকে গচ্ছিত সব টাকা হারিয়ে যাবে।

ব্যাংককে টাকা রেখে নিম্মোক্ত বিষয়গুলি বিষয়ে সর্বাধিক সচেতন থাকলে আপনার টাকা থাকবে হাজার গুন বেশি নিরাপত্তার চাঁদরে ঢাকা।

আবার আপনার ভুলের জন্য আপনার রাখা টাকা আপনিই সময় মতো উঠাতে পারলেন না।

তাহলে ব্যাংকে টাকা রেখে কি হবে। টাকা নিরাপদে রাখা উচিত তাই বলে এতটাও নিরাপদে নয় যে আপনার নিজে টাকা আপনি নিজেই উঠাতে পারছেন না। 

ব্যাংকের চেক ব্যাংক ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি যদি ব্যাংক সার্ভিস গ্রাহক হিসেবে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন বা লেনদেন করতে চান তাহলে জেনে নিন নিচে বিষয় সমূহ, যা আপনাকে বাচিয়ে দিতে পারে অনেক বড় বিপদের হাত থেকে।

অনেক বড় বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ টাকা লেনদেনের গ্রহণযোগ্যতা খুবই কম। বর্তমানে বড় বড় সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক চেকের মাধ্যমেই হয়। এর অন্যতম কারণ, উভয়পক্ষের কাছে টাকা দেওয়া নেওয়ার যথেষ্ট প্রমান থাকে এবং টাকা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় কোনো ঝুকি থাকে না।

কিন্তু এই চেকই (Cheque) একটা ভুলের কারণে আপনাকে কত বড় বিপদে ফেলতে পারে সে সম্পর্কে আপনি জানেন কি? 

১) যাকে টাকা দেবেন তার নাম উল্লেখঃ

আপনি আপনার চেক – Cheque দিয়ে যাকে টাকা দিচ্ছেন চেকে তার নাম অতি সাবধানতার সাথে লিখতে হবে, যাতে করে নামের আগে বা পরে কেউ অন্যকিছু লিখে জালিয়াতি করার সুযোগ না পায়।

নাম ছোট হলে নামের শেষে ফাঁকা জাকায়গায় একটি লম্বা করা দাগ টেনে দিতে পারেন আপনার নিরাপত্তার জন্য।

আর নাম লেখা শুরু করবেন চেকের নাম লেখার ঘরের একদম শুরু থেকে।  প্রয়োজনে ব্যক্তির নামের শেষে ব্রাকেটে তার অ্যাকাউন্ট নাম্বার – Account Number লিখে দিতে পারেন।

কিন্তু দাগ টানা অথবা Account Number লেখা যে কোনো একটি করা যাবে। দুতি করতে গেলে চেকটি তার সৌন্দর্য হারাবে এবং ব্যাংক থেকে  রিজেকট করাও হতে পারে। 

২) টাকার পরিমাণ বা টাকার অঙ্কঃ 

 চেক(Cheque) এ টাকার পরিমাণ লেখার সময়ে চেকের নির্দিষ্ট অংশের একদম বা দিক থেকে লেখা শুরু করতে হবে।

যাতে আপনার লেখ টাকার পরিমাণের সামনে কেউ একটি ডিজিট বাড়িয়ে টাকার পরিমাণ বারাতে না পারে এবং টাকার পরিমাণ লেখার শেষে টাকার সাংকেতিক চিহ্ন দিবেন। 

৩) তারিখ লেখার বিষয়েঃ

পোস্ট ডেটেড চেক (Post dated cheque) ইস্যু করার সময় ভবিষ্যতের কোনো তারিখ সুবিধা অনুসারে বসান।

তবে তা যেন তিন মাসের মধ্যেই হয়। কারণ তিন মাস পর চেক (Cheque) সম্পূর্ণ অবৈধ হয়ে যায়।

৪) আপনার স্বাক্ষর দিনঃ 

ব্যাংকে হিসাব খোলার সময় দেওয়া সাক্ষরই আপনার নির্ধারিত স্বাক্ষর। এই সাক্ষরই দিন স্বাক্ষর যেন তা পরিবর্তন না হয়।

স্বাক্ষর না মিললে আপনার চেক আটকে যাবে এটা আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

এবার চেক লেখার সময় যেসব দিকে খেয়াল রাখতে হবে তথ্য  জেনে নেওয়া যাক। 

আরও পড়ুনঃ

মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায় কি? কিভাবে ব্যাটারির যত্ন নিবেন

কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কাকে বলে | Computer কে আবিষ্কার করেন

ব্যাংক চেক লেখার সময় জরুরি কিছু নিয়ম যা আপনার মনে রাখা প্রয়োজন। Rules for writing checks in Bangla 

১) অ্যাকাউন্ট নম্বর লিখবেন যেভাবেঃ 

চেক (Cheque) এর পেছনে সবসময় অ্যাকাউন্ট নম্বর (Account Number) এবং ফোন নম্বর(Phone number) লিখে দিন।

কোনও কারণে চেকএ (Cheque) কোনো রকম সমস্যা হয় তাহলে ব্যাংক প্রতিনিধি আপনার সাথে ওই নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন তার জন্য সবসময় চেকের পেছনে সব সময় আপনার অ্যাকাউন্ট নম্বর (Account Number) এবং ফোন নম্বর লিখুন।

তবে স্বাক্ষর এবং মোবাইল নাম্বার লিখলেও ব্যাংক গ্রহণ করে থাকে। 

২) ফর্মের কাউন্টার দুটি পার্ট যা করবেনঃ

ব্যাঙ্কে চেক (Cheque) জমা করার সময় ফর্মে যে দুটি অংশ থাকে সে দিকে নিশ্চয়ই খেয়াল করে থাকবেন। দুটির একটি অংশ ব্যাংকের কাছে ও অন্যটি আপনাকে দেওয়া হবে।

আপনাকে দেওয়া অংশটি কখনোই ফেলে দেবেন না। তবে ওই ফর্মটি কিন্তু আপনার চেক(Cheque) জমা করার একমাত্র প্রমাণ হিসেবে কাজ করে থাকে। সেটিকে নিজের কাছে সামলে রাখুন গুরুত্তের সাথে।

এমনকি এই অংশ ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যেখানে সেখানে ফেলবেন না। ব্যাংক এটি সংগ্রহ করে রাখে তবে মাঝে মধ্যে গ্রাহকের কাছেই থেকে যায়। 

 ৩ ) চেক- এ কাটাকাটি বা ওভাররাইটিং 

আপনি আপনার ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার সময় সেটিকে নির্ভুল কাটাকুটি মুক্ত করে পূরণ করে তবেই দিবেন। কাটাকুটি করে লেখা চেক ব্যাংক কোনভাবেই গ্রহণ করে না। 

8) অ্যাকাউন্ট পেয়ী – Account payee 

এই ধরনের চেক (Cheque) কাউকে দেওয়ার হলে চেকের ওপরের বাঁ দিকে ২টি সমান্তরাল লাইন কাটুন এবং তাতে তার অ্যাকাউন্ট পেয়ী (Account payee) না লিখলে চেক বাহক ব্যাঙ্কে চেক(Cheque) ভাঙ্গাতে পারবেন। 

৫) বেয়ারার চেক – Bearer Cheque

এই ধরনের চেক(Cheque) কাউকে দিতে হলে অবশ্যই বেয়ারার (Bearer) অপশনে টিক দিয়ে তবেই দিবেন। তা না হলে বেয়ারার চেক বলে গণ্য হবে না। 

৬) চেক(Cheque) বাতিল প্রসঙ্গ

বিভিন্ন কারণে চেক বাতিল হতেই পারে। কোনো চেক বাতিল হলে সাথে সাথে তা হয় ছিরে ফেলবেন নয় ক্যান্সেলড লিখে দিন চেকের উপরে বড় করে।  

সোনালী ব্যাংকের চেক লেখার নিয়ম

এই চেক লেখার নিয়ম বাংলাদেশের সকল ব্যাংকের চেক লেখার নিয়ম (Rules for writing checks) যেমন,

  • সোনালি ব্যাংকের,
  • ইসলামী ব্যাংকের,
  • অগ্রণী ব্যাংকের,
  • জনতা ব্যাংকের ,
  • পূবালী ব্যাংকের ,
  • ডাজ-বাংলা ব্যাংকের,

নিজের নাম চেক লেখার নিয়ম কাউকে দেওয়ার জন্য চেক লেখার নিয়ম সহ এই চেক- Cheque মানেই এই নিয়ম সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 

আরও পড়ুনঃ

চেক লেখার নিয়ম কি? প্রশ্ন ও উত্তর

চেক লেখার নিয়ম কি?

চেক লেখার নিয়ম হচ্ছে যাকে টাকা দিচ্ছেন তার নাম চেক (Cheque) এ লেখার সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন। খেয়াল রাখবেন যাতে তার পাশে অন্য কিছু লিখে কেউ জালিয়াতি না করতে পারে।

কিভাবে ব্যাংক চেক কিখবেন?

ব্যাংক চেক লিখার জন্য তারি, টাকার পরিমান ও স্বাক্ষর করার দিকে বিশেষ নজর দিন। এছারাও ব্যাংক চেক লেখা সম্পর্কে আমাদের পোস্ট পরতে পারেন।

সোনালী ব্যাংকের চেক লেখার নিয়ম কি?

সোনালী ব্যাংকের চেক লেখার নিয়ম সহ বাংলাদেশের যে কোন ব্যাংক চেক লিখতে আপনি উপরোক্ত নির্দেশনা অনুসরন করুন।

পসংহার

আজকের আর্টিকেল থেকে আমরা শিখতে চেষ্টা করেছি কিভাবে ব্যাংকের চেক লিখতে হয়, ব্যাংকের টাকার নিরাপত্তা বাড়াতে হয়, কিভাবে চেক ক্যান্সেল হলে ক্লোজ করতে হয়।

আশা করি ব্যাংকের চেক লেখা নিয়ে আপনার মাঝে আর কোনো দ্বিধা বা অজ্ঞতা থাকবেনা। 

নিত্যনতুন আরও লেখা পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে এবং কানেক্ট থাকুন আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে।

Leave a Comment

9 + six =