কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কাকে বলে | Computer কে আবিষ্কার করেন

কম্পিউটার কি? ( What is Computer in Bangla) আমাদের আজকের পোস্ট। আজকে আমরা জানতে চেষ্টা করবো কম্পিউটারের সাধারণ জ্ঞান, বেসিক কম্পিউটার এবং কম্পিউটারের পরিচিতি ( Computer Basic Knowledge in Bengali)। 

কম্পিউটারের কিছুই যারা জানেন না তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি। বর্তমান সময়ের অন্যতম দরকারি একটি ডিভাইস কম্পিউটার। কম্পিউটার সম্পর্কে আদ্দপান্থ জেনে নেওয়া যাক। 

ধীরে ধীরে বিজ্ঞান উন্নতির সাথে সাথে আমরা ডিজিটাল যুগের প্রবেশ করেছি। বর্তমান ডিজিটাল যুগে কম্পিউটার শিক্ষা এবং ডিজিটাল দুনিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য কম্পিউটার কি এবং কম্পিউটার সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত আবশ্যক। কেননা বর্তমানে প্রতিটি কাজে কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হয়েছে।

Contents hide

Computer (কম্পিউটার) শব্দের সম্পূর্ণ নামComputer full form in Bangla

কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কাকে বলে
কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কাকে বলে

ইংরেজি পাঁচটি শব্দ নিয়ে কম্পিউটার। তবে কম্পিউটার হলো পৃথিবীর বিশেষ ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের সংক্ষিপ্ত নাম। প্রিয় পাঠক কম্পিউটারের পুরনাঙ্গ নাম Common Operating Machine Purposely Used for Technological and Educational Research.

So, The Computer full form is common Operating Machine Purposely Used for Technological and Educational Research.

যার অর্থ সাধারণভাবে পরিচালিত যন্ত্র, যা বিশেষ করে প্রযুক্তি, শিক্ষা, অনুসন্ধানের জন্য ব্যবহার কে বোঝায়। 

কম্পিউটার কে আবিষ্কার করেন? খুঁটিনাটি ইতিহাস 

কম্পিউটার কে আবিষ্কার করেন
(Computer) কম্পিউটার কে আবিষ্কার করেন

কম্পিউটারের জনক চার্লস ব্যাবেজ এবং আধুনিক কম্পিউটারের জনক অ্যালান টার্নিং। এটির সাধারণ কাঠামোর নির্মাতা জন ভন নিউম্যান এবং এর প্রথম প্রোগ্রামার অ্যাডা লাভলেস। আইবিএম (১৯৮১) সাধারন মানুষের জন্য সর্বপ্রথম কম্পিউটার তৈরি করেন।

কম্পিউটারের সাধারণ পরিচিতি:

কম্পিউটার মূলত তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণ করে। প্রত্যেক কম্পিউটারে কমান্ড দেওয়ার জন্য বেসিক ডিভাইস থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মাউস এবং কিবোর্ড। এই যন্ত্রটির মেমরিতে

কমান্ড সেভ করা থাকে। সিপিউ মূলত কম্পিউটারের প্রক্রিয়াকরণের কাজ করে। আউটপুট প্রদান করার উদ্দেশ্যে কম্পিউটারের সাথে একটি মনিটর ব্যবহার করা হয়। 

কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কত প্রকার ও কি কি বিস্তারিত 

কম্পিউটারের মূল অর্থ গণকযন্ত্র বা গননার যন্ত্র। সাধারণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একটি যন্ত্র কম্পিউটার।

পরিবর্তনশীল প্রোগ্রাম দেওয়া নির্দেশাবলী মেনে কম্পিউটার বাইনারি আকারে তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে।

কম্পিউটারের সাহায্যে গননা থেকে শুরু করে অডিও, ভিডিও, এমনকি কোডিং এর মতো গভীর কাজ করতে পারি।

মূলত কম্পিউটারকে একের ভিতর সব বলাই বেটার। তথ্য সংগ্রহের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো কম্পিউটার। এটি বৈদ্যুতিক সংকেতে তথ্য গ্রহণ করে। কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ভাষা বাইনারিতে (০,১ সংখ্যা দ্বারা) গঠিত। 

কম্পিউটারের জনক কে?

কম্পিউটার তৈরীর জন্য অনেকেই কাজ করেছিলেন। তবে সর্বপ্রথম কম্পিউটার সম্পর্কে তথ্য জানিয়েছিলেন তিনি হলেন হাওয়ার্ড অ্যাইকন। তাই হাওয়ার্ড অ্যাইকনকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়ে থাকে।

হাওয়ার্ড অ্যাইকন হচ্ছেন কম্পিউটার এর জনক কারণ তিনি সর্বপ্রথম কম্পিউটার আবিষ্কার করেছিলেন।

আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে?

হাওয়ার্ড অ্যাইকনের পরবর্তীতে চার্লস ব্যাবেজ যিনি ১৮১০ সালে প্রথম যান্ত্রিক উপায় ব্যবহার করে সংখ্যা ও সারণী গণনা করার মাধ্যমে কম্পিউটারের আধুনিক ভার্সন তৈরি করেন বিধায় আধুনিক কম্পিউটারের জনক হিসাবে চার্লস ব্যবেজ কেই স্বীকৃতি দেয়া হয় আন্তর্জাতিক ভাবে।

কম্পিউটার কত প্রকার ও কি কি 

কাজের ধরণ এবং কোয়ালিটি হিসেবে কম্পিউটার তিন প্রকার। 

১) এনালগ কম্পিউটার – Analog computers

২) ডিজিটাল কম্পিউটার – Digital computers

৩) হাইব্রিড কম্পিউটার – Hybrid computers

এনালগ কম্পিউটার কাকে বলে বিস্তারিত 

ক্রমাগত পরিবর্তনশীল ডেটা পরিমাপের জন্য যে কম্পিউটার বুবহার করা হয় তাকে এনালগ কম্পিউটার বলে। এনালগ কম্পিউটারে সঠিক ফলাফল বা তথ্য পাওয়া যায় না। এনালগ কম্পিউটারের উদাহরণ, স্লাইড রুল, স্টেপড রেকনার ইত্যাদি। 

এনালগ কম্পিউটার মূলত বৈদ্যুতিক তারের মধ্য থেকে ভোল্টেজ ওঠানামা মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়।

এছাড়াও চিকিৎসা কাজে ইসিজি করতে এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তরল এবং গ্যাসীয় পদার্থের তারতম্ম নিরনয়ে ব্যবহার করা হয়। 

ডিজিটাল কম্পিউটার কাকে বলে বিস্তারিত 

যেকোনো ধরনের ইনফরমেশন বা তথ্যকে প্রসেস করতে সাহায্য করে ডিজিটাল কম্পিউটার। এই কম্পিউটার এত দ্রুত কাজ করে প্রতি ১ সেকেন্ডের কয়েক হাজার ভাগের এক ভাগ সময়ের মধ্যে আউটপুট দিয়ে থাকে। 

ডিজিটাল কম্পিউটার গননা এবং লকাল অপারেশন বাইনারি সিস্টেমে  করে থাকে। ডিজিটাল কম্পিউটার কোনও ডাটা ইনপুট করার পরে তাকে বাইনারি সংখ্যায় রুপান্তর করে ফেলে। 

অর্থাৎ, ডিজিটাল কম্পিউটার বাইনারি নিয়মে কনভার্ট করে ইনপুট থেকে আউতপুতের ডাটা প্রস্তত করে।

এর অন্যতম কারণ, ডিজিটাল কম্পিউটার মূলত ০ এবং ১ এই দুইতি সংখ্যা ছাড়া কিছুই চেনে না। তাই,আমাদের করা ইনপুট ডাটাকে বাইনারি সংখ্যায় কনভার্ট করে তা আবার সাধারন ভাষায় কনভার্ট করে আউটপুট হিসেবে আমাদের প্রদান করে থাকে। 

আরও পড়ুনঃ

আর এমনভাবেই ডিজিটাল কম্পিউটার এবং মান্নুশের মধ্যে যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে। ডিজিটাল কম্পিউটারের উদাহরনঃ পার্সোনাল কম্পিউটার, ডেক্সটপ, ল্যাপটপ, স্মার্টফোণ ইত্যাদি। 

হাইব্রিড কম্পিউটার কাকে বলে বিস্তারিত 

হাইব্রিড কম্পিউটার মূলত এনালগ এবং ডিজিটাল কম্পিউটারের সমন্বিত রুপ। তাই হাইব্রিড কম্পিউটারকে সংকর কম্পিউটারও বলা হয়। 

মনে রাখবেন হাইব্রিড কম্পিউটারে এনালগ পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হলেও গণনা করা হয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

এর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে, আভাওয়া অধিদপ্তরের মেশিন। আভাওয়া পরিমাপ মেশিন এনালগ পদ্ধতিতে বায়ুচাপ তাপ ইত্যাদি পরিমাপ করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আভাওয়ার পুরভাবাস দিয়ে থাকে।  হাইব্রিড কম্পিউটার তৈরি করা প্রচুর ব্যবহুল তাই বিশেষ বিশেষ কাজ শুদুমাত্র ব্যবহার হয়। 

মুলত হাইব্রিড কম্পিউটারের কিছু বৈশিষ্ট্য, এনালগ এবং ডিজিটাল কম্পিউটারের সমন্বয়ে তৈরি। ইনপুট এনালগে আউতপুত ডিজিটালে। বিশেষ বিশেষ কাজে ব্যবহৃত। জটিল প্রকিতির গঠন এবং তুলনামূলক ভাবে দাম অনেক বেশি। 

হাইব্রিড কম্পিউটার মূলত বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয়ের কঠিন সমস্যা সমাধানে অধিক ব্যবহার হয়। পরীক্ষাগারে ঔষধের মান নির্ণয়ে, পরমাণুর গঠন প্রকৃতি জানার কাজে ব্যবহৃত হয়। 

এছাড়াও ডিজিটাল কম্পিউটারকে আকার আয়তন, কার্যক্ষমতা ভেদে কম্পিউটারকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। জেনে নেওয়া যাক ডিজিটাল কম্পিউটারের চার ধরনের কম্পিউটার সম্পর্কে।

ডিজিটাল কম্পিউটার কয় প্রকার ও কি কি এবং এদের কাজ সমূহ

ডিজিটাল কম্পিউটার আবার চার ধরনের হয়ে থাকে। তা হলোঃ 

১) Supur computers – সুপার কম্পিউটার। 

২) Main Frame computers – মেইন ফ্রেম কম্পিউটার। 

৩) Mini computers – মিনি কম্পিউটার। 

৪) Micro computers / PC – মাইক্রো কম্পিউটার/ পিসি।  

সুপার কম্পিউটার – Supur computers কি এবং কি কাজে ব্যবহার হয়? 

সুপার কম্পিউটার হাইব্রিড কম্পিউটারের থেকেও ব্যায়বহুল এবং অতি দ্রুত কাজের জন্য সবথেকে বেশি পারদর্শী। এমনকি  বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী কম্পিউটার সুপার কম্পিউটার। 

নতুন প্রজন্মের সুপার কম্পিউটার সাধারন উদ্দেশ্যের তুলনায় বিশাল করমখমতা সম্পন্ন কম্পিউটার। এটি দিজাইনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিলো বৃহৎ সংস্থাগুলোতে কম্পিউটিং শক্তি বাড়ানো। 

হাজার হাজার প্রসেসরের সমন্বয়ে এই সুপার কম্পিউটার গঠিত যা একই সাথে একাধিক একাধিক কাজ করার খমতা রাখে।

এই কম্পিউটার এতটাই ফাস্ট যে প্রতি সেকেন্ডে এই কম্পিউটার ব্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন নির্দেশনা চালাতে পারে।

যার ফল স্বরূপ এই সব কম্পিউটারের মূল্য অ্যামেরিকান টাকায় ৫ লাখ থেকে ২০০ মিলয়ন ডলার পর্যন্ত যা বাংলাদেশি টাকায় 43787370.00  – 17,514,948,000 টাকা। 

এই ধরনের সুপার কম্পিউটার মূলত বেশিরভাগ সময়ে বড় আকারের বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রকৌশল ক্ষেত্রগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ডেটা সংরক্ষণ করার জন্য এই ধরনের উচ্চ মান সম্মত সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

পৃথিবীর অন্যতম একটি সুপার কম্পিউটারের নাম তিয়ানহি-২ যা  চীনের একটি ন্যাশনাল সুপার কম্পিউটার সেন্টারে অবস্থিত আছে। এই সুপার কম্পিউটারে ৩.১২ মিলিয়ন কোর বৈশিষ্ট্যযুক্ত। 

সুপার কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলতে গেলে বলে একপ্রকার শেষ করা যাবে না।

বর্তমানে সুপার কম্পিউটারের কম্পিউটিং কর্মক্ষমতা MIPS এর পরিবর্তে FLOPS আকারে পরিমাপ করা হয়।

সুপার কম্পিউটার মূলত বিশাল সংখ্যার প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট। র‍্যাম টাইপের মেমোরি ইউনিটের একটি বিশাল সংগ্রহ। লোডের মধ্যে উচ্চ গতির আন্তঃ সংযোগ যুক্ত করা। 

উচ্চ লেভেলের ইনপুট আউটপুট গতি ব্যবস্থা। সফটওয়ারের কাস্টম ব্যবহার।কার্যকরী তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এটির মাধ্যমে  বিপুল পরিমাণ গণনা পরিচালনা করা সম্ভব যা মানুষের শক্তির অনেক বাহিরে। 

মেইন ফ্রেম কম্পিউটার – Main Frame computers  কি এবং কি কাজে ব্যবহার হয়? 

মিনি ও মাইক্রো কম্পিউটারের থেকে বড় এবং সুপার কম্পিউটারের থেকে ছোট অথচ মুহূর্তের মধ্যে অধিক কাজ করতে সক্ষম সেটাই মেইন ফ্রেম কম্পিউটার। 

মেইন ফ্রেম কম্পিউটারও এক ধরনের উচ্চস্তরের কম্পিউটার যন্ত্র। উচ্চতর জটিল জটিল বিষয়ের সমাধান পেতে এই কম্পিউটার ব্যবহার হয়। এই কম্পিউটারে একই সাথে অনেক কাজ করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে একাধিক টার্মিনাল।

এই কম্পিউটার বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় গবেষণা প্রতিস্থানে বেশি ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও বিশ্বের ডেটা সংরক্ষণে কাজ করা বড় বড় প্রতিষ্ঠান এসব কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে। 

মিনি কম্পিউটার –  Mini computers কি এবং কি কাজ করে 

একধরনের ছোট কম্পিউটারকে মিনি কম্পিউটার বলে। এর অন্য নাম মিনিফ্রেম কম্পিউটার। মেইনফ্রেম কম্পিউটারের তুলনায় অনেক ছোট আকারের এই কম্পিউটারটি টার্মিনালের মাধ্যমে একসঙ্গে অনেক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে এই মিনি কম্পিউটার। 

এই কম্পিউটারের জন্য কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণের জন্য সাধারন একটি বরদ বিশিষ্ট বর্তনী ব্যবহৃত হয়। এটি বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কাজে অবদান রাখতে পারে। 

উৎপাদন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের কম্পিউটার মুলত সচারচার দেখা যায়। 

মাইক্রো কম্পিউটার/ পিসি – Micro computers / PC কি?  What is Microcomputer in Bengali/Bangla? 

মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে তৈরি কম্পিউটারেই মাইক্রোকম্পিউটার বলা হয়। বর্তমান সময়ে সবথেকে বেশি ব্যবহৃত কম্পিউটার হলো মাইক্রোকম্পিউটার।

এই কম্পিউটারগুলো মানুষ সাধারণভাবে ব্যবহার করে বলে একে পার্সোনাল কম্পিউটার বলা হয়।

এ ধরনের কম্পিউটারকে সহজে বহন করা যায়, অর্থাৎ এই কম্পিউটারগুলো বহনযোগ্য কম্পিউটার। এছাড়াও এই ধরনের কম্পিউটারের দামও অন্যান্য কম্পিউটারের থেকে তুলনামূলক অনেক কম। 

মাইক্রো কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণও তুলনামূলক সহজ হয়ায় এটির ব্যবহার এখন সবথেকে বেশি।

ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীক, দপ্তরিক, সরকারি বেসরকারি, বিনোদনমূলক সবকিছুতে এই কম্পিউটার অধিক ব্যবহার যোগ্য কম্পিউটার। IBM PC, APPLE Macintosh ইত্যাদি মাইক্রোকমপিউটারের অন্যতম উদাহরণ।

মাইক্রো কম্পিউটারকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং কি কি, এদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানুন।

আরও পড়ুনঃ

মাইক্রোকম্পিউটারের প্রকারভেদ (Types of Microcomputer)

মাইক্রোকম্পিউটারকে আকৃতিগত দিক থেকে নানান রকমের ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলোঃ 

১। ডেস্কটপ কম্পিউটার – Desktop Computer 

২। ল্যাপটপ কম্পিউটার -Laptop Computer 

৩। নােটবুক কম্পিউটার – Notebook Compuer. 

মাইক্রোকম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Microcomputer)

১) মাইক্রোকম্পিউটার আকারে ছোট।

২) এটিতে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ (CPU) হিসেবে মাইক্রোপ্রসেসরের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

৩) এই কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণের জন্য চৌম্বক কোরের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

৪) এই কম্পিউটার আকার আকৃতিতে এতটাই ছোট যা খুব সহজে বহন করা যায়। 

৫) মাইক্রোকম্পিউটারের অন্যতম গুন এটি খুব কম পরিমাণ বিদ্দুত খরচ করে নিজেকে চালাতে।

মাইক্রো কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্র

বর্তমান সময়ে বলতে গেলে এই কম্পিউটার ব্যবহার হয় সব ক্ষেত্রে। শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ কিছু জায়গার ছারাই সবখানেই মাইক্রোকম্পিউটারের ব্যবহার।এর মধ্যে মাইক্রো কম্পিউটার ব্যবহারের কিছু উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র নিচে উল্লেখ করা হলোঃ 

ব্যবসাবাণিজ্যএ এটি সব থেকে বেশি ব্যবহার করা হয়। বৈজ্ঞানিক গবেশনাই অন্যান্য কম্পিউটারের সহযোগী কমকপিউতার হিসেবে এটির ব্যবহার হয়।

এছাড়াও শিল্পায়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা, প্রকাশনা, যোগাযোগ, বিনোদন, আইন-আদালত এসব ক্ষেত্রেই এই মাইক্রো কম্পিউটার বহন করা হয়। এত অন্য তম কারণ এটি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়, রক্ষণাবেক্ষণে সুবিধা, সহজে বহনযোগ্য। 

কম্পিউটারের গুণাবলিঃ 

কম্পিউটার মূলত নিজস্ব ভাবে হিসেব বা কাজ করতে পারে। এর হিসেব এবং সকল কাজ শতভাগ নির্ভুল এবং গ্রহণযোগ্য।

এই ডিভাইসের মেমোরি বাড়ানো এবং কমানো যায় যার ক্ষমতা অনেক অনেক বেশি। এই যন্ত্রটি একইসাথে অনেক কাজ করতে পারে এবং মুহূর্তের মধ্যে সকল জটিল হিসেব করতে সক্ষম।

একটি কম্পিউটারের সাধারণ যন্ত্রাংশও সমুহঃ 

একটি কম্পিউটার মূলত অনেকগুলো ডিভাইস বা যন্ত্রাংশ একত্রিত করে তৈরি হয়।

যেমন, সিপিইউ, মনিটর, কিবোর্ড এবং মাউস। এর মধ্যে যেকোনো একটি যন্ত্রাংশ ছাড়া সম্পূর্ণ কম্পিউটার অচল হয়ে থাকে। 

কম্পিউটারের কাজের পদ্ধতি:

কম্পিউটার মূলত ইনপুট- প্রসেস-আউটপুট এই পদ্ধতিতে কাজ পরিচালনা করে থাকে। সেক্ষেত্রে আমরা প্রথমে কম্পিউটারকে তথ্য পাঠাই এটাকে ইনপুট বলে। কম্পিউটার তখন যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে তথ্য অনুযায়ী পাওয়া ফল দেখায় বা শোনায়।

আর এই দেখানো বা শোনানো কে কম্পিউটারের ভাষায় আউটপুট বলা হয়ে থাকে। 

কম্পিউটারের ইনপুট ডিভাইস সমূহ:

আমরা কম্পিউটারকে নির্দেশ করার জন্য যেসকল ইনপুট ডিভাইস ব্যবহার করে থাকি সেসব ডিভাইসের মধ্যে অন্যতম হলোঃ  

১) কীবোর্ড

একজন ইউজার কম্পিউটারে ডাটা ইনপুটের ক্ষেত্রে  কিবোর্ডের ব্যবহার করে থাকে। টেক্সট বা কমান্ড টাইপিং এর জন্য কিবোর্ড কাজ করে। এর মাধ্যমে কম্পিউটারকে বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়া হয়। 

২) মাউস

ডগলাস এঙ্গেলবার্ট ১৯৬৩ সালে মাউসের আবিষ্কার করেন যা দেখতে ঠিক ইদুরের মতো ছোট। মাউসের সাহায্যে মনিটরের পয়েন্টার বা কার্সরের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থকে। কার্সর তীরের মতো ইংরেজি আই অক্ষরের মতো দেখতে। 

৩) স্ক্যানার

একটি মুদ্রিত পৃষ্ঠা বা গ্রাফিক্সকে ডিজিটাল ছবিতে পরিণত করতে স্কানার ব্যবহার করা হয়। বইয়ের কোনো সফট কপি দেখতে  পাই সেটি এই স্কানার থেকে করা হয়ে থাকে। 

৪) মিডি – MIDI (মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট ডিজিটাল ইন্টারফেস)

এই সিস্টেমের মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক্স বাদ্দ যন্ত্রের মধ্যে তথ্য প্রেরণ করা হয়ে থাকে। 

এবার কম্পিউটারের আউটপুট ডিভাইস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 

কম্পিউটারের আউটপুট ডিভাইস: Output device of computer 

কম্পিউটারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু আউটপুট ডিভাইস সম্পর্কে আলচনা করা যাক। 

১) মনিটর/ ডিসপ্লে 

মনিটর সাধারণত ভিজুয়াল ডিসপ্লে ইউনিট। মনিটর একটি কম্পিউটারের মূল আউটপুট ডিভাইস। মনিটরের স্ক্রিন ছোট ছোট পিক্সেল থেকে চিত্র বা ছবি তৈরি হয় এবং কম্পিউটারের নির্দেশে পরবর্তীতে কম্পিউটারের আউটপুট তথ্য প্রদর্শন করে। 

মনিটরে পিক্সেলের সংখ্যা বেশি হলে ছবি বেশি স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল দেখা যায়। আর পিক্সেলের সংখ্যা কম হলে ছবির স্পষ্টতা ও উজ্জলতা  দুটোই কমে যায়। 

২) প্রিন্টার

 কম্পিউটারের অন্যতম একটি আউটপুট ডিভাইস হলো প্রিন্টার। প্রিন্টারের সাহায্যে কম্পিউটারের প্রসেসিং করা তথ্য কাগজে মুদ্রিত হয়ে হার্ড কপি বের হয়। প্রিন্টারের ধরন মূলত দুইটি। একটি  ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার ও অন্যটি নন-ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার। এছাড়াও প্রিন্টার বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। 

৩) প্রজেক্টর

প্রজেক্টর হলো এক ধরনের আউটপুট ডিভাইস যার সাহায্যে চলমান চিত্রকে পর্দার উপর প্রদর্শন করানো যায়।  

৪) স্পিকার 

কম্পিউটার সিস্টেমের সবচেয়ে একটি সাধারন সিস্টেম স্পিকার। স্পিকারের সাহায্যে আমরা কম্পিউটারের কমান দেওয়া অডিও শুনতে পাই। 

এবার আশা যাক কম্পিউটারের মেমরিতে। 

কম্পিউটারের মেমরির কাজ সমূহ: 

আমাদের মস্তিষ্কের মতো কাজ করে কম্পিউটারের মেমরি। মেমরি সবসময় কম্পিউটারের সকল তথ্য ধারন করে রাখে। একই সাথে লোড করা কমান্ডের সাহায্যে নানান ধরনের ডাটা পেওসেসিং এর কাজ করে।  মেমরি ছোট ছোট অংশ নিয়ে মেমরি তৈরি হয়, যা সেল বা লোকেশন নামে পরিচিত।

কম্পিউটারের মেমোরি তিন প্রকারের হয়ে থাকেঃ 

  1. ক্যাশ মেমরি।
  2. প্রাথমিক মেমরি
  3. রান্ডম মেমরি 

১) ক্যাশ মেমরি  

CPU  এর কাজের গতি বাড়াতে সাহায্য করে ক্যাশ মেমরি। ক্যাশ মেমরি একধরনের উচ্চ- গতি সম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর মেমরি। প্রাথমিক মেমরি এবং র‍্যান্দম মেমরির মধ্যে ক্যাশ মেমরি বাফার হিসেবে কাজ করে। 

২) প্রাথমিক মেমরি – Primary Memory

এখানে কম্পিউটার নির্মাতারা বিশেষ কিছু আদেশ ও অনুদেশ কমান্ড আকারে কম্পিউটারের বোধগম্য ভাষায় যোগ করে দেয়।

এখানে শুধুমাত্র সেসব নির্দেশাবলী থাকে যার মাধ্যমে কম্পিউটার চলে। 

কম্পিউটার ডিভাইসের বৈদ্যুতিক সংঅপারেটিং সিস্টেম, অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম এবং বর্তমান ব্যবহারের তথ্য রাখা হয়।

যোগ বিচ্ছিন্ন হলে এর তথ্যগুলো হারিয়ে যায়। কম্মপিউতারের প্রাথমিক এই মেমরিতে সকল তথ্য নির্দেশাবলী প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে। 

প্রাথমিক মেমরির আবার দুইটি ভাগ রয়েছে। র‍্যাম ও রম নামে পরিচিত। 

RAM (রান্ডম অ্যাক্সেস মেমরি)

একটি কম্পিউটারের র‍্যামে শুধুমাত্র অপারেটিং সিস্টেম, অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম এবং বর্তমান ব্যবহারের তথ্য রাখা হয়।

কম্পিউটার বন্ধ করে দিলে এর কোনও তথ্যই আর থাকে না। এই কোয়ালিটির মেমরি অন্য মেমরির তুলনায় দ্রুত গতি সম্পন্ন। 

র‍্যামকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 

১) SRAM: স্ট্যাটিক রান্ডম অ্যাক্সেস মেমরি।

২)  DRAM: ডায়নামিক রান্ডম অ্যাক্সেস মেমরি।

ROM বা রম (রিড অনলি মেমরি) 

রম কম্পিউটারের এমন সব তথ্য সংগ্রহ করে যা শুধুমাত্র পড়া যায়। এই তথ্যগুলো পরিবর্তন করা একদমই অসম্ভব বা খুব কঠিন।

এটি একপ্রকার নন ভোলাটাইল স্টোরেজ, অর্থাৎ এই মেমরির তথ্য কম্পিউটার বন্ধ হয়ে গেলেও পাওয়া যায়। 

রম মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে। 

১) PROM – প্রোগ্রামা-বল রিড অনলি মেমরি।

২) EPROM – ইরেজেবল প্রোগ্রামা-বল রিড অনলি মেমরি।

৩) EEPROM – ইলেক্ট্রনিক্যালি ইরেজেবল প্রোগ্রামা-বল রিড অনলি মেমরি।

৩) Secondary Memory – সেকেন্ডারি মেমরি 

সেকেন্ডারি মেমরি বা এক্সটারনাল মেমরি বা বাহ্যিক মেমরি একই। সেকেন্ডারি মেমরি আসলে বিভিন্ন ধরনের স্টোরেজ মিডিয়া। এই মেমরির সাহায্যে তথ্য এবং প্রোগ্রামগুলো সংরক্ষণ করা যায়।

সেকেন্ডারি মেমরি ফিক্সড বা রিমুভেবল অর্থাৎ, অপসারণ যোগ্য মেমরি এটি। ফিক্সড মিডিয়া মেমরি হলো হার্ডডিস্কের মতো অভ্যন্তরীণ একটি স্টোরেজ যা কম্পিউটারের ভিতরে সেট আপ করা থাকে।

রিমুভবল সেকেন্ডারি মেমরির মধ্যে কয়েকটি মেমরি হলো হার্ড ড্রাইভ, এসএসডি, সিডি, অপটিক্যাল ড্রাইভ ইউএসবি ড্রাইভ ইত্যাদি।  

একটি কম্পিউটারের সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা সিপিউর কাজ 

কম্পিউটারের প্রধান প্রসেসিং এর অংশ হলো সিপিউ।সিপিউ মূলত নির্দেশাবলী পুনরুদ্ধার করে এবং কার্যকর করে।

সিপিউকে কম্পিউটার সিস্টেমের মস্তিস্ক বলা হয়।  গানিতিক এবং লজিক ইউনিট (এএলইউ) একটি কন্ট্রোল ইউনিট। এছাড়া বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে গঠিত সিপিউ। 

কম্পিউটারের সফটওয়ার সমুহঃ 

একধরনের নির্দেশাবলীর একটি ক্রম বা সিরিজ হচ্ছে সফটওয়ার। এই সফটওয়ারের সাহায্যে একটি কম্পিউটার নির্দিষ্ট কাজ বা অপারেশন করার নির্দেশনা দিয়ে থাকে।

যেকোনো কম্পিউটার সফটওয়্যার কম্পিউটার প্রোগ্রাম এবং অ- নির্বাহ যোগ্য তথ্য নিয়ে গঠিত হয়ে থাকে যেমন, অনলাইন ডকুমেন্টেশন বা ডিজিটাল মিডিয়া।  

সফটওয়ারের ধরণ মূলত দুইটি। একটি সিস্টেম সফটওয়্যার এবং অন্যটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। 

প্রিয় পাঠক কম্পিউটারের পরিচিতি । Computer Basic Knowledge in Bengali নিয়ে আজ এই পর্যন্তই।

আরও পড়ুনঃ

What is Computer in Bangla? FAQS

কম্পিউটারের কি?

Compute শব্দের অর্থ হিসাব বা গণনা করা। আর কম্পিউটার (Computer) শব্দের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র। কম্পিউটার হচ্ছে একটি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র।

কম্পিউটারের আবিষ্কারক কে?

অনেক বিজ্ঞানী কম্পিউটার আবিস্কারের সাথে জরিত। তবে কম্পিউটারের আবিষ্কারক হচ্ছেন হাওয়ার্ড অ্যাইকন কারণ তিনি সর্বপ্রথম কম্পিউটার আবিষ্কার করেছিলেন।

কম্পিউটারের প্রজন্ম কয়টি? 

কম্পিউটার আবিস্কারের প্রথম প্রান্তিকে বিদ্যুৎ চালিত কম্পিউটার এনিয়াক থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সুপার কম্পিউটার প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে, সেই সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়কালে আমরা কম্পিউটার কে পাঁচটি প্রজন্ম বা জেনারেশনে ভাগ করতে পারি।

উপসংহারঃ

কম্পিউটার কী? কম্পিউটারের পরিচিতি এবং কম্পিউটার বিষয়ক সাধারণ তথ্যাবলী আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি পুরো আর্টিকেল জুড়ে। 

আশা করছি computer basic knowledge নিয়ে আপনাদের আর কোনো ভ্রান্ত ধারণা বা ভুল চিন্তা থাকবে না। 

লেখাটি হেল্পফুল মনে হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। নিয়মিত আমাদের লেখা পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে।

1 thought on “কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কাকে বলে | Computer কে আবিষ্কার করেন”

Leave a Comment

fifteen − five =