দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এখন থেকে বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত সোমবার সারাদেশে একযোগে এই নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর হয়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি নোটিশ জারি করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সব সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতি সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে দায়ী করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল সেই নোটিশে।
শুধু হাজিরা নিশ্চিত করাই নয়, ভবিষ্যতে এই তথ্যের সঙ্গে চিকিৎসক ও কর্মীদের বেতন, ছুটি এবং পদোন্নতির বিষয়গুলোও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে জবাবদিহিতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য
সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির অভিযোগ ছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছিল সাধারণ রোগীদের সেবা প্রাপ্তিতে। এই সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, যাতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যায়।
গত মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেই আলোচনায় বায়োমেট্রিক হাজিরার পাশাপাশি জিওফেন্সিং প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ডিজিটাল তদারকি ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়েও কথা হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, রোগীরা সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক পাবেন না, এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অফিস সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুনঃ নাম বদলে ‘এয়ারটেল’ এখন ‘সার্কেল’
নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
বায়োমেট্রিক হাজিরা, জিওফেন্সিং ও ডিজিটাল তদারকির সমন্বয়ে একটি সমন্বিত উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি সারাদেশের সরকারি হাসপাতালের দৈনিক হাজিরার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি রিয়েল টাইম ড্যাশবোর্ড তৈরিরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কর্মদক্ষতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে প্রতি মাসে সেরা পাঁচ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার পাঁচ শতাংশ প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়া হবে, আর দুর্বল কর্মদক্ষতা দেখানো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। আগামী ২৫ আগস্ট এসব উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।
আরও পড়ুনঃ বিদ্যুৎ গেলেই অকেজো হয়ে পড়ে টেলিটকের সিমের ইন্টারনেট সেবা
হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার পরিকল্পনা
শুধু হাজিরা নয়, হাসপাতালের আর্থিক খাতেও স্বচ্ছতা আনতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেবিন ফি পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা বিশেষভাবে মাথায় রাখতে বলা হয়েছে, যাতে এই পদক্ষেপের কারণে দরিদ্র রোগীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ না পড়ে।
হাসপাতাল থেকে আদায় করা ফি এর একটি অংশ অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে সেবার মান উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মজুদ, রাজস্ব আদায় এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা জোরদার করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালের আয় ব্যয়, ওষুধের মজুদ এবং সার্বিক আর্থিক কার্যক্রমের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


