বাংলাদেশে সরকারি সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করতে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের সব সরকারি সেবা পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হবে, যাতে নাগরিকরা ঘরে বসেই অধিকাংশ সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আয়োজিত ইনোভেশন শোকেসিং অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন।
অর্থমন্ত্রীর মতে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জনগণের সময়, অর্থ এবং ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
Content Summary
সরকারি সেবা শতভাগ ডিজিটালাইজেশন হবে
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি সেবাগুলো পুরোপুরি ডিজিটাল হলে নাগরিকদের অফিসে বারবার যেতে হবে না এবং প্রয়োজনীয় সেবা আরও দ্রুত পাওয়া যাবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারি দপ্তরে সরাসরি সেবা নিতে মানুষের নির্ভরতা কমিয়ে অনলাইনভিত্তিক সেবাকে আরও কার্যকর করতে হবে। এতে সরকারি সেবার মান উন্নত হবে এবং দুর্নীতির সুযোগও কমে আসবে।
আরও পড়ুনঃ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি
ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে সময় ও অর্থ সাশ্রয়
সরকারি সেবা ডিজিটাল হলে নাগরিকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো বা একাধিকবার অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন কমে যাবে। আবেদন, তথ্য যাচাই, অনুমোদন এবং বিভিন্ন সনদ সংগ্রহের মতো কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক হবে।
ইনোভেশন শোকেসিংয়ে ৫০টি উদ্ভাবন প্রদর্শন
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ইনোভেশন শোকেসিং অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনস্থ ২৫টি দপ্তর ও সংস্থা তাদের ৫০টি উদ্ভাবনী সেবা ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করে।
এই উদ্ভাবনগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, গ্রাহকসেবা সহজ করা এবং সরকারি কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ।
আরও পড়ুনঃ টেলিটক বিক্রি করবে না সরকার, আধুনিকায়নের ঘোষণা আইসিটি মন্ত্রীর
ইতোমধ্যে ৩২৯টি সেবা ডিজিটাল হয়েছে
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে ইতোমধ্যে ৩২৯টি সরকারি সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে।
এসব ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে নাগরিকরা দ্রুত আবেদন, তথ্য যাচাই এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবা অনলাইনে গ্রহণ করতে পারছেন। ভবিষ্যতে আরও নতুন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার
এবারের ইনোভেশন শোকেসিং অনুষ্ঠানে পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে।
সরকার মনে করছে, এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি গড়ে তুলবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুনঃ আঙুলের ছাপ চুরি করে সচল হাজারো সিম, কীভাবে চলছে প্রি অ্যাক্টিভেটেড সিম প্রতারণা
সাধারণ নাগরিকদের জন্য কী সুবিধা হবে
সরকারি সেবা শতভাগ ডিজিটাল হলে নাগরিকরা ঘরে বসেই অনেক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
অনলাইনে আবেদন ও অনুমোদন সহজ হবে।
সরকারি দপ্তরে যাতায়াত কমবে।
সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে।
উপসংহার
সরকারি সেবা শতভাগ ডিজিটাল করার উদ্যোগ বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সরকারি সেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে, সেবা গ্রহণ সহজ হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।
আগামী দিনে আরও বেশি সরকারি সেবা অনলাইনে যুক্ত হলে নাগরিকদের জন্য এটি বড় সুবিধা হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুনঃ সব হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম বাধ্যতামূলক
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


