নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী দামে নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল আমদানি করতে যাচ্ছে। সম্প্রতি টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এক বা একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে পণ্য আমদানি করা হবে। তবে আমদানি করা পণ্য বাজারদরেই বিক্রি করা হবে। এই শর্তেই প্রশ্ন উঠেছে, যৌথ উদ্যোগে নিম্নআয়ের মানুষের বাস্তব সুবিধা কী হবে।
যৌথ উদ্যোগের শর্তাবলি
প্রস্তাব অনুযায়ী, টিসিবি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বিনিয়োগ করবে, দায়িত্ব ভাগ করবে এবং মুনাফা ভাগ করবে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানকে অংশীদার করা হবে, কার কতটা বিনিয়োগ থাকবে, মুনাফা-ক্ষতি কীভাবে ভাগ হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ নেই।
এছাড়া আমদানি খরচ, বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ক্ষতি কীভাবে বণ্টন করা হবে, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরই এই প্রক্রিয়া আরও এগোবে।
আরও পড়ুনঃ গ্রাহকসেবায় এআই ভয়েসবট চালু করছে রবি
টিসিবির সক্ষমতা ও চাহিদা
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টন পণ্য বিক্রি করে এবং বছরে চাহিদা প্রায় ৫ লাখ টন। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় এক কোটি নিম্নআয়ের পরিবারকে সেবা দেয়।
টিসিবি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের আন্তর্জাতিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছিল না। এই সমস্যা সমাধানে বেসরকারি অংশীদারদের সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিসিবির মূল লক্ষ্য হলো নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী দামে পণ্য পৌঁছানো। কিন্তু বাজারদরে পণ্য বিক্রি করলে সেই লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।
তারা আরও বলছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা গেলে এই উদ্যোগে জনস্বার্থের চেয়ে বেসরকারি ব্যবসায়িক স্বার্থই বেশি প্রাধান্য পাবে। অংশীদার নির্বাচন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


