বিভিন্ন প্রয়োজনে ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন সার্টিফিকেট নিলেও পরবর্তী সময়ে অনেকেরই সেটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। টিআইএন সক্রিয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। তবে ইচ্ছেমতো টিআইএন বাতিল করা যায় না; নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে বাতিলের আবেদন করতে হয়।
টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায় এমন কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে, ভুলবশত একই ব্যক্তির নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে, নির্দিষ্ট কাজের জন্য নেওয়া টিআইএন আর প্রয়োজন না থাকলে, আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে, দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলে এবং দেশে করযোগ্য আয় না থাকলে, অথবা করদাতার মৃত্যু হলে উত্তরাধিকারীরা আবেদন করতে পারেন।
কোথায় আবেদন করবেন
টিআইএন বাতিলের আবেদন মূলত দুটি উপায়ে করা যায়। প্রথমে অনলাইনে চেষ্টা করতে পারেন, আর অনলাইনে সম্ভব না হলে সরাসরি কর অফিসে গিয়ে আবেদন করা যায়।
অনলাইনে আবেদনের জন্য এনবিআরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের ই-টিআইএন অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। অ্যাকাউন্ট না থাকলে আগে নিবন্ধন করে নিতে হবে। এরপর ই-সার্ভিস সেকশন থেকে টিআইএন বাতিলের নির্দিষ্ট ফরম বেছে নিয়ে টিআইএন নম্বর, বর্তমান অবস্থা এবং বাতিলের যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করে ফরমটি পূরণ করতে হবে। সব তথ্য সঠিকভাবে দিয়ে ফরমটি অনলাইনে সাবমিট করতে হবে।
সরাসরি কর অফিসে আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে টিআইএন সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবসা বন্ধের প্রমাণপত্র সঙ্গে নিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে আগের কয়েক অর্থবছরের শূন্য রিটার্ন দাখিলের প্রাপ্তিস্বীকারপত্রও চাওয়া হতে পারে।
আবেদনের পর কী হয়
আবেদন জমা দেওয়ার পর এনবিআর কর্তৃপক্ষ সেটি পর্যালোচনা করে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাইতে পারে। যাচাই-বাছাই শেষে সব ঠিক থাকলে টিআইএন বাতিলের অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে আবেদন করার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে করদাতার কোনো বকেয়া কর দায় নেই এবং কর সংক্রান্ত কোনো বিষয় আদালত বা অন্য কোনো ফোরামে বিচারাধীন নেই। কারণ এসব ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বাতিলের পর কী করবেন
একবার টিআইএন বাতিল হয়ে গেলে কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আর থাকে না এবং পুরোনো নম্বরটি আর ব্যবহার করা যায় না। ভবিষ্যতে নতুন করে টিআইএন প্রয়োজন হলে পুনরায় আবেদন করতে হবে। তাই বাতিলের আবেদন করার আগে ভবিষ্যতে টিআইএন লাগবে কিনা, তা ভালোভাবে ভেবে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে কর অফিস বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


