সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কি । সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তন

সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কি? এই বিষয়ে আপনি জানেন কি। এতদিন পর্যন্ত পেনশন সুবিধা মানেই সরকারি চাকরিজীবী দের বুঝিয়েছে। এখন বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে দেশের সাধারন জনগণের জন্য ও সরকার সাধারণ পেনশন ব্যবস্থা কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আজকে আমরা জানবো, সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কি। কিভাবে এই পেনশনের আওতায় আনা হবে সকল মানুষকে। 

দেশের বয়স্ক ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার এমন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে বলে জানা যায়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রাপ্ত বয়স্ক সবাইকে সার্বজনীন পেনশন এর আওতায় আনবে। 

আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানবো, সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ধারণা, সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তন সম্পর্কে।

জানবো এই পেনশনের জন্য মূলত যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করা হবে তার আদ্দপান্থ। চলুন জেনে নেওয়া যাক সার্বজনীন ব্যবস্থা সম্পর্কে।

সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কি? সার্বজনীন পেনশন কি ? What is universal pension system

সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কি
সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কি

পেনশন হচ্ছে নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত চাকরি করার পরে অবসরে যাওয়ার পরেও এককালীন বেশ কিছু পরিমাণ টাকা দেওয়ার পদ্দতি।

এই পদ্দতিতে ঐ চাকরিজীবীর মাসিক মূল বেতনের সম পরিমাণ টাকা আমৃত্যু দেওয়া হয়।

এছাড়াও মৃত্যুর পরেও সন্তান বা স্ত্রীকে দেওয়া হয় সমপরিমাণ টাকা। 

তবে এতদিন পর্যন্ত এই পেনশন ব্যবস্থা শুধুমাত্র সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দেওয়া ছিলো।

ব্লগ লিখে আয় করার উপায় | ঘরে বসে বাংলা লিখে টাকা আয় করুন! বিকাশ পেমেন্ট

তবে দেশের মানুষের বিশেষ করে বয়স্কদের কথা চিন্তা করে সার্বজনীন অর্থাৎ দেশের সবার জন্য চাকরিজীবী নয় শুধু সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের জন্যেও পেনশন ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে সরকার। 

সার্বজনীন পেনশন কি । পেনশন ব্যবস্থা করতে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণ 

দেশের বেশিরভাগ মানুষ যখন সচল থাকে তখন কাজ করে খেতে পারে। তবে বৃদ্ধ বয়সে মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকে না।

খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয়।

এর ফলে সরকার দেশের সকল জনগণের জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। 

পেনশন ব্যবস্থার নিয়মাবলী জানবো নিচে। সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কি এই বিষয়টি বিস্তারিত সকল পেনশন গ্রহীতার জানা উচিত।

সেই নিয়মাবলী অনুযায়ী সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা জনগণের জন্য এমন পজেটিভ কাজ নিশ্চয়ই।

এই নিয়মের মধ্যে দেশের সবাইকে বাধ্যতামূলক পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহন করতে হবে। 

এবার জেনে নেওয়া যাক সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার নিয়মাবলী।

এই নিয়ম অনুযায়ী আগামি এক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রত্যেক জনগণের অংশগ্রহণ করতে হবে।   

আরও পড়ুনঃ

সোনালী ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়ম | Sonali Bank Loan Rules

সোনালী ব্যাংক সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম 2022

২১ টি নিয়মাবলী অন্তরগত করা হয়েছে সার্বজনীন পেনশনের মধ্যে। এই ২১ টি বিষয় জানবো আপনাদের। 

২১ টি বিষয়ের মধ্যে সবকয়টি বিষয় সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের জন্য থাকতে হবে।

চলুন, জেনে নেওয়া যাক সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ২১ টি বিষয়। 

প্রস্তাবিত সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সরকার দ্বারা উল্লেখযোগ্য বিসয়সমুহ 

সরকার দ্বারা প্রস্তাবিত ২১ টি উল্লেখযোগ্য বিষয় সামনে আনা হয়। এর মধ্যে সবকটি বিষয় জানতে হবে মানতে হবে।

বিষয়গুলো হলোঃ 

১) দেশের সকল ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে ১৮ বছর থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত কর্মক্ষম (ইনকাম করতে পারে) নাগরিক এই পেনশনের আওতায় আসবে। 

২) দেশের অনেক মানুষ কাজের জন্য বিদেশে অবস্থান করে তারাও এই পেনশনের আওতাভুক্ত হতে পারবে। 

৩) এক্ষেত্রে সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত সকল চাকরিজীবীদের সার্বজনীন পেনশন আওতাভুক্তের বাহিরে রাখা হয়েছে। এসব চাকরিজীবীদের জন্য সার্বজনীন পেনশন বিষয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নিবেন সরকার। 

৪) সার্বজনীন পেনশন হিসাব খলার জন্ন ১৮ থেকে ৫০ বছরের সকল জনগন তাদের ভোটার আইডি কার্ডের উপর নির্ভর করে বা ভিত্তি করে পেনশন ব্যবস্থা চালু করবেন। 

৫) এই সুবিধা চালু করার পর প্রথম দিকে ব্যক্তি নিজ ইচ্ছায় বা সেসসছায় চাইলে সার্বজনীন হিসাব খুলবে যা পরবর্তী সময়ে বাধ্যতামূলক করা হবে। 

৬) এই পেনশনের নিয়ম অনুযায়ী একভাব ১০ বছর কোনো ব্যক্তি টাকা জমা দেওয়াএর পর বা চাদা দেওয়ার পর থেকে মাসিক ভাবে পেনশন পেতে শুরু করবেন। 

সার্বজনীন পেনশন স্কিম বিস্তারিত

৭) একজন ব্যক্তির একটি ই পেনশন হিসাব থাকবে যার ফলে চাকরি বা কাজ বা ইঙ্কামের সোর্স পরিবর্তন করলেও সার্বজনীন পেনশনের হিসাব থাকবে  অপরিবর্তিত। 

৮) যেকোনো প্রতিষ্ঠান সর্বজনীন পেনশনের আওতাভুক্ত হতে পারবে। এক্ষেত্রে কর্মী বা প্রতিষ্ঠানের চাদা জাতীয় পেনশন কত্রিপক্ষ নিরধারন করে দিবে।  

৯) সর্বনিম্ম মাসিক চাদার হার নিরধারন করা থাকবে। শুধু মাত্র প্রবাশি কর্মীরা টিন মাস পর পর চাদা জমা দিতে পারবেন। 

১০) বছরে একটি নুন্নতম পরিমাণ টাকা ব্যক্তিকে জমা নিশ্চিত করতে পারবেন। তা করতে ব্যর্থও হলে হিসাব স্থগিত হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে দেরিতে দেওয়ার জন্য জরিমানা সহ বকেয়া পরিশোধ ক্লিয়ার করে হিসাব পুনরায় সচল করতে হবে। 

১১) যে ব্যক্তি পারবে সে নির্ধারিত তকারা পরেও বাড়তি টাকা জমা দিতে পারবে। 

সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কি এর জন্য ব্যক্তির ৬০ বছর পর্যন্ত হওয়ার পর নির্ধারিত হারে মাসিক মুনাফা পাবেন। 

সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তন

১২) এই সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা এর আওতাভুক্ত সকল ব্যক্তিরা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। 

১৩) ব্যক্তি ৭৫ বছরের আগে মারা গেলে ব্যক্তির নমিনি বাকি সময় অর্থাৎ ব্যক্তি ৭৫ বছর পর্যন্ত পূর্ণ হওয়া অব্ধি মাসিক পেনশন প্রাপ্ত হবে। 

১৪) সার্বজনীন পেনশন কি এর অর্থ কোনও ভাবেই এক পর্যায়ে উত্তলন বা উঠানো যাবে নাহ। এক্ষেত্রে বিশেষ দরকার জমা টাকার অরধেক অর্থাৎ ৫০ ভাগ আবেদন করে ঋণ হিসেবে উঠানো যাবে। তবে এটি আবার সুদ সহ পরিশোধ করতে হবে। 

১৫) ১০ বছর চাদা দেওয়ার আগে কেউ মারা গেলে তার জমা অর্থ মুনাফা সহ যে নমিনি থাকবেন তাকে ফেরত দেওয়া হবে। 

১৬) পেনশন হিসেবে নির্ধারিত চাদা বিনিয়োগ ধরে গন্ন করে কর রেয়াতের জন্য হিসাব হবে এবং মাসিক পেনশন বাবদ অর্থ আয়কর মুক্ত হবে। 

১৭) ব্যক্তি চাকরি, করমস্থল পরিবর্তন করলেও এই হিসাব থাকবে। এক্ষেত্রে ব্যক্তির কোনো রকম কাজ করতে হবে না। 

১৮) দেশের যেকোনো জায়গা থেকে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা পরিচালনা করা যাবে।  

১৯) যাদের আয় তুলনামূলক অনেক কম তাদের ক্ষেত্রে পেনশন কর্মসূচির মাসিক চাদার একটি অংশ সরকার অনুদান হিসেবে দিতে পারে বলে জানা গেছে। 

২০) পেনশন কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অন্যান্য সকল খরচ সরকার বহন করবে। 

২১) পেনশনের কত্রিপক্ষ জমা টাকা নিয়ম অনুযায়ী নীতিমালা মেনে বিনিয়োগ করবে। 

আরও পড়ুনঃ

নতুন মিটারের জন্য অনলাইনে আবেদন

জিপিএফ হিসাব দেখার নিয়ম । GPF Balance check calculations

টিকটক ভিডিও কিভাবে বানাবো | How to make a Tiktok video

সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কি?

বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে সকলের জন্য অবসরকালীন ভাতা প্রদান। যাকে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা বলা হচ্ছে।

সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় কারা অংশ গ্রহন করতে পারবেন?

সার্বজনীন পেনশন পদ্ধতিতে সরকারি অথবা আধা-সরকারি বা স্বায়ত্ত্বশাসিত অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। এক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের চাঁদার অংশ জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেবে।

সর্বশেষে 

আজকে আমরা জানতে চেষ্টা করেছি সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কি।

সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রনয়ন কিভাবে সার্বজনীন পেনশন পরিচালনা করবে

কারা কারা এই পেনশনের আওতাভুক্ত হতে পারবে এর সবকিছু। নিশ্চয়ই সার্বজনীন পেনশব ব্যবস্থা দেশের সাধারন জনগণের জন্য মঙ্গলজনক হবে। 

আজকের এই পোস্টটি পড়ার পরে আশা করছি এই বিষয়ে আর কোনো দ্বিধা বা অজ্ঞতা থাকবে না। 

সব বিষয়ে নিত্য নতুন পোস্ট পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।

চোখ রাখুন আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে।

Leave a Comment

twenty − eight =