বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক কে?

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক কে? আপনারা কি জানেন। আজকে পোষ্টের মাধ্যমে আমরা জানবো বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা কে আবিষ্কার করেছেন।

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক হলেন এফ.ডব্লিউ. টেইলর। যার নাম পুরোপুরি বললে ফ্রেডরিক উইন্সলো টেইলর। 

যিনি সারা জীবন শিল্পোৎপাদনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

১৮৭৫ সালে তিনি বিভিন্ন ধরনের কোম্পানিতে নমুনা তৈরি এবং লেদ চালানোর কাজে শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করেছেন।

১৮৭৮ সালে তিনি মিটবল স্টিল কোম্পানিতে একজন সাধারন মেকানিক হিসেবে যোগদান করেছিলেন।

এবং সন্ধ্যাকালীন তিনি করছে পড়াশোনার মাধ্যমে প্রকৌশলী ডিগ্রী লাভ করেন।

পরবর্তীতে তাকে সে কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি ঘোষণা করা হয়।

তারপর তিনি একটি কাগজে রাষ্ট্রের কারখানায় সাধারণ ব্যবস্থাপক হিসেবে তিন বছর যাবত কাজ করেছিলেন।

এরপর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবস্থাপনায় পরামর্শদাতা হিসেবে তিনি একটি স্বাধীন ব্যবসায় লিপ্ত হন।

এফ.ডব্লিউ. টেইলরের আত্মজীবনী । বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক কে?

এফ.ডব্লিউ. টেইলরের আত্মজীবনী
এফ.ডব্লিউ. টেইলরের আত্মজীবনী

এফ ডব্লিউ টেইলর জন্মগ্রহণ করেন ২০ মার্চ, ১৮৫৬ সালে। তখনকার সময়ে নিম্ন মধ্যবিত্ত একটি পরিবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে তাঁর জন্ম।

তার পিতা ফ্রাঙ্কলিন টেইলর একজন প্রিন্সটন শিক্ষিত আইনজীবী ছিলেন।

তার মাতা মিলি অ্যানেট টেইলর ছিলেন একজন প্রদীপ্ত মৃত্যুদণ্ডবিলোপপন্থী এবং লুক্রেশিয়া মট এর সহকর্মীকে ছিলেন। এফ ডব্লিউ টেইলর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন একজন ব্যক্তি।

শিক্ষাজীবনে আইনজীবী হওয়ার আশায় তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হলেও চোখের সমস্যা জনিত কারণে তার পক্ষে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।

তার ফলে তিনি ১৮৭৫ সালে ক্ষুদ্র নির্মাণ শিল্পে শিক্ষানবিশ নকশা প্রণেতা হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন।

তারপর তার ১৮৭৮ সালে তিনি মিডভেল স্টিল কোম্পানিতে একজন যন্ত্রচালক হিসেবে নিয়োগ পান।

একই সঙ্গে তাঁর নৈশকালীন পড়াশোনা করে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন লাভ করেছিলেন।

অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী টেইলর কার্যক্ষেত্রে স্বীয় কর্মদক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার বলে কর্ম নায়ক এবং ফোরম্যান থেকে শুরু করে নানান পদোন্নতিতে প্রাপ্ত হতে থাকেন।

এবং অবশেষে তিনি ১৮৮৪  সালে মাত্র ২৮ বছর বয়সে মিডিল কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলীর পদ অলংকৃত করেছিলেন।

টেইলর সাধারণ শিক্ষানবিশ থেকে মিডভেল ষ্টীল কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত বিভিন্ন পদে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার বিভিন্ন বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।

যখন তিনি সে কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন তার কাছে শিল্প প্রতিষ্ঠান নানান ধরনের সমস্যা উঠে আসে।

বিশেষত শ্রমিকরা তাদের উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় মান্য উৎপাদন করে বলে তার নিকট মনে হতে থাকে।

তিনি এ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে থাকেন এবং এর সমাধান হিসেবে কি হতে পারে এ নিয়ে দীর্ঘ দুই দশক বিভিন্ন গবেষণা কর্ম পরিচালনা করেন।

তিনি বৈজ্ঞানিক উপায়ে তথ্য অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করে করগুলো রীতিনীতি ও তত্ত্ব উদ্ভাবন করে শিল্পক্ষেত্রে বা কলকারখানায় প্রয়োগ করতে থাকেন।

এভাবে তিনি তাঁর গবেষণা কর্মের ফলাফল একটি স্বতন্ত্র দর্শনে পরিণত করেন।

যা বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা (Scientific Management) নামে পরিচিত লাভ করে।

আরও পড়ুনঃ

ফুসফুসের সমস্যা ও সমাধান | সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায়

কিভাবে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করা যায়?

হরমোনের সমস্যা বোঝার উপায়? হরমোনের সমস্যা দূর করার উপায়?

অবসর

১৮৯০ সালে তিনি মিডভেল ষ্টীল কোম্পানি থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন এবং ১৮৯৮ সালে বেথেলহেম স্টিল কোম্পানিতে যোগদান করেন।

তাছাড়াও তিনি ১৯০০ সাল পর্যন্ত কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছিলেন।

১৯০১ সালে ৪৫বছর বয়সে তিনি সকল চাকরি থেকে অবসর নেন এবং জীবনের বাকিটা সময় বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের উদ্বোধনসহ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন।

টেইলর ১৯০৬ সাল থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত ‘American Society of Mechanical Engineers’ এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৯১৫ কীর্তিমান ব্যবস্থাপনা পন্ডিত অথবা বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক এফ ডব্লিউ টেইলর মৃত্যুবরণ করেন।

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার নীতি বা আদর্শ উপস্থাপন

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার নীতি বা আদর্শ উপস্থাপন
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার নীতি বা আদর্শ উপস্থাপন

ব্যবস্থাপনার গতানুগতিক পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান যে সকল কাজ রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের সকল দিকে দক্ষতা অর্জন করা কেই মূলত বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা বলা হয়।

১৯১২ সালে এক সমাবেশে টেইলর বক্তব্য দেয়ার সময় বলেছিলেন, শীঘ্রই কিংবা অদূর ভবিষ্যতে গতানুগতিক পদ্ধতিতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং পদ্ধতির ব্যবহার সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়বে।

ব্যবস্থাপনায় এফ ডব্লিউ টেইলর তার বিখ্যাত গ্রন্থ  ‘Principles of Scientific Management’এরমধ্যে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার কতিপয় নীতি এবং আদর্শ তুলে ধরেছেন।  তিনি গ্রন্থটি প্রকাশ করেছিলেন ১৯১১ সালে।

নিমেষেই আদর্শ অথবা নীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

  • গতানুগতিক হাতুড়ে পদ্ধতির পরিবর্তে প্রতিটি কাজে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার;
  • বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কর্মী নির্বাচন, প্রশিক্ষন দান ও তাদের উন্নয়ন;
  • ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের মধ্যে সউহার্দ্য সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা;
  • ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের মধ্যে ও কর্তব্যের সুষ্ঠ বণ্টন;

তখনকার সময়ে আমেরিকাতে তার এই গ্রন্থটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। মূলত এই গ্রন্থটি ছিল বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার নীতি সংবলিত একটি গ্রন্থ।

পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ কারখানা ব্যবস্থাপকগণ টেইলরের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার নীতি অনুসরণ করে তাদের কারখানায় প্রয়োগ করতে শুরু করেন।

টেলরের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ফ্রাঙ্ক লিলিয়ান গিলব্রেথ দম্পতি, হ্যারিন্টেন ইমারসল, হেনরি লরেন্স গ্যান্ট, কার্ল বার্থ প্রমুথ ব্যবস্থাপনার সকল পণ্ডিতগণ তাকে সহায়তার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক মতবাদের প্রবক্তা লেনিন সহ আরো অনেকেই সামরিক সংগঠনে টেইলরের আবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োগের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ

কাগজ দিয়ে বানানো সবচেয়ে দামি জিনিস কি

কানের দুল ডিজাইন ডাউনলোড । নতুন ও সুন্দর কানের দুলের ডিজাইন

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক কে FAQS

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক কে?

ফ্রেডরিক উইন্সলো টেইলর হলেন বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক।

ফ্রেডরিক উইন্সলো টেইলর কত সালে জন্ম গ্রহন করেন?

এফ ডব্লিউ টেইলর জন্মগ্রহণ করেন ২০ মার্চ, ১৮৫৬ সালে।

উপসংহার

আমরা আশা করছি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক কে সে সম্পর্কে আপনাদেরকে সঠিক ধারণা দিতে পেরেছি। এফ ডব্লিউ টেইলর একজন খুবই বিচক্ষণ ব্যক্তি এবং বুদ্ধিমান ছিলেন।

তার কারণেই আজ এ ব্যবস্থাপনা কাজ খুবই সহজ এবং সুন্দর হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের যদি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে চলে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান উন্নতি হবে।

আমরা আশা করছি আপনারা সকল বিষয় বুঝতে পেরেছেন।

এবং এ বিষয়ে যদি আর কোন প্রশ্ন কিংবা মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।

এরকমই আরো নিত্যনতুন আর্টিকেল গুলো পড়তে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন।

সেই সাথে সকল আপডেট এর জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ এর মধ্যে চোখ রাখতে পারেন।

Leave a Comment

three + 1 =