সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় না কেন আপনি জানেন কি?

আমাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা জানতে চান যে সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় না কেন? এছাড়াও অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ককেও এই প্রশ্ন রয়েছে।

আপনি হতে পারেন সাধারন মানুষ বা শিক্ষার্থী, পক্রিতির মেঘ বৃষ্টির খেলা সম্পর্কে জানতে পারেন।

মূলত নিজ সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধি করার জন্য পড়তে পারেন। কেননা মানুষের জীবনে জ্ঞান অর্জনের কোন বিকল্প নেই। 

সেই সাথে নিজের ছিন্তা ও ধারণাকে সঠিক কাজে লাগাতে আপনাকে জ্ঞান অর্জনের মধ্যেই থাকা ভালো।

চলুন জেনে নেই সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় না কেন প্রশ্নের উত্তর। 

সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় না কেন জানুন 

সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় না কেন
সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় না কেন

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে জলীয় বাষ্প হাল্কা বলে সহজেই ওপরে উঠে যায়।

তার উদাহরণ হল শীতের সময়ে আমারা যখন পুকুরের পাড়ে দাড়াই তখন জলীয় বাষ্প উড়ে যেতে দেখি। 

আমারা নিশ্চয়ই জানি যে আকাশের উপরের বায়ু অনেক শীতল।

আকাশের ওপরে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয় এবং বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণা, কয়লার কণা প্রভৃতিকে আশ্রয় করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা বা তুষারকণায় পরিণত হয়। 

বিজ্ঞানীদের ধারণা মতে দেড় থেকে তিন কোটি জলকণা যুক্ত হলে তা বৃষ্টিকণায় পরিণত হয়, যা ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে। যাকে আমরা বৃষ্টি হিসেবে মনে করে থাকি। 

আপনারা এতক্ষণ যে তুষারকনার নাম শুনলেন তা হচ্ছে মেঘ। এই ভাসমান জলকণা বা তুযারকণার সমষ্টির নাম মেঘ। মেঘ সৃষ্টিকারী এইসব জলকণা বা তুষারকণা অত্যন্ত ক্ষুদ্র হয়, যাদের গড় ব্যাস মাত্র ১০০ মিলিমিটার বা ০.০১ মিলিমিটার। 

আকাশে সৃষ্ট এই তুষারকনা গুলি অতি সহজেই মেঘ হিসাবে ভেসে বেড়ায়। কিন্তু মেঘের মধ্যে ভাসমান এই অতি ক্ষুদ্র কণাগুলি যখন পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গড়ে ০৫ মিলিমিটার ব্যাসের হয়, তখন এগুলি আর ভেসে থাকতে পারে না। 

মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে ঐ মেঘ বৃষ্টিরূপে আছ্রে পড়ে এই পৃথিবীর বুকে। মেঘের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা বা তুষারকণা বিভিন্ন কারণে সংযুক্ত হয়ে থাকে, যেমন—কখনও বিদ্যুৎ মােক্ষণের জন্য, কখনও উর্ধ্বমুখী বায়ুর প্রভাবে খুব বেশি শীতল হয় বলে। 

তবে যেহেতু সব মেঘে সৃষ্ট জলকণা বা তুষারকণা গুলি একসাথে সংযুক্তির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয় না, তাই সব মেঘ থেকে বৃষ্টিও হয় না।

সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় না হওয়ার কারণ 

আরও পড়ুনঃ

Nagad Dial Code Number | নগদ একাউন্ট দেখার চেক কোড কত?

জন্ম তারিখ বের করার নিয়ম

জলকণার ব্যাস 

প্রতিটি মেঘকণার গড় ব্যাস হয়ে থাকে 0.02 মিমির কম বা 10-15 মাইক্রন। 1.5 কোটি থেকে 3 কোটি মেঘকণার সংযুক্তি ঘটলে জলকণার ব্যাস 0.5-2 মিমি বা তার বেশি হয়, যেগুলি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে পৃথিবীপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে।

সবসময় জলকণার ব্যাস 0.5 বা তার বেশি হয় না, ফলে সেগুলি অধঃক্ষিপ্ত হয় না বা ধরণীতে আছড়ে পড়ে না।

স্বল্প আপেক্ষিক আর্দ্রতা 

বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা 100% বা তার অধিক না হওয়া পর্যন্ত তার জলধারণ ক্ষমতা থাকে। তখন বৃষ্টিপাত হয় না।

জলকণার, সংযুক্তিকরণের অভাব

বায়ুমণ্ডলে মেঘগুলি বিক্ষিপ্তভাবে ভেসে থাকলে মেঘকণা গুলির সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পায় না। বড়ো জলকণায় পরিণত হয় না।

এর উপর অভিকর্ষ টান থাকে না। ফলে বৃষ্টিপাত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

তাই আমরা অনেক সময়ই আকাশে মেঘ গুলোকে ভেসে ভেসে চলে যেতে দেখি আমাদের থেকে দূরে। 

তখন আমাদের কাছে বৃষ্টি হয় না তবে এটা মনে রাখবেন এই বৃষ্টির বেশে বেশে আরো জলকণা কে একত্রিত করে কোন না কোন স্থানে বৃষ্টি ঘটে থাকে।  

আরও পড়ুনঃ

ইউনিয়ন সমাজকর্মীর কাজ কী

উপ খাদ্য পরিদর্শক এর কাজ কি?- সহকারী উপ খাদ্য পরিদর্শক এর কাজ কি ।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি | ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব এবং ক্যারিয়ার গড়ব

সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় না কেন?

সব মেঘ থেকে বৃষ্টি না হাওয়ার কারণ হচ্ছে বায়ুমণ্ডলে মধ্যে ভাসমান তুষারকণা গুলির বা জলকণার ব্যাস 0.5 বা তার বেশি না হওয়া। তাই এখন আমারা বতে পারি বায়ুমণ্ডলে ভাসমান জলকণার ব্যাস 0.5 বা তার বেশি হলে বৃষ্টি হয়।

উপসংহার,

আশা করি আপনি জানতে পেরেছেন যে সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় না কেন। 

মহান আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির অপরূপ লীলা খেলা আমরা বুঝিনা। 

আপনাদের উপরোক্ত যে আলোচনাটি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণা নির্ভর একটি তথ্য।

আশা করি আপনারা সম্পূর্ণ আল্লাহর উপর ভরসা রাখবেন এবং চিন্তা করবেন মেঘ-বৃষ্টি দেওয়ার মালিক আল্লাহ আল্লাহ চাইলে যেকোন সময় মেঘ-বৃষ্টির দিতে পারে আবার নাও দিতে পারে। 

অনলাইনে বিভিন্ন তত্ত্ব সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।

জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। 

Leave a Comment

11 − one =