পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত? পদ্মা সেতু a to z জানুন

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেতুর দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার এই সম্পর্কে জানতে আমাদের এই পোস্টটি পড়ুন। পদ্মা বহুমুখী সেতু বা পদ্মা ব্রিজের দৈর্ঘ্য কত সকল বাংলাদেশী নাগরিকদের জানা উচিত।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত জনগণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার পদ্মা সেতু তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করে ২০০৬-০৭ সালে। প্রকল্প চালুর পর থেকেই পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির কথা চারদিকে শোনা যেতে থাকে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন করা থেকে বিরত থাকে। 

দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় একটি নদী, পদ্মা নদীর উপরে তৈরি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্রিহত্তম জনগোষ্ঠীর জন্য তৈরি করা এই বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু বাংলাদেশের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবে বলে বাংলাদেশ সরকার বিশ্বাস করে। 

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত? পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার

নদীমাত্রিক দেশ, বাংলাদেশের একটি বৃহত্তম সেতু হচ্ছে পদ্মা ব্রিজ। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬.১৫ কিলোমিটার (২০,২০০ ফুট)। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এর সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সাথে উত্তর পূর্ব অংশের  সংযোগ ঘটবে।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত হয়েছে আমাদের এই সোনার বাংলাদেশ।  তাই বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মাসেতু হতে যাচ্ছে ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং ও দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে তৈরি করা বিশ্বের বৃহত্তম সেতু। 

আমরা ইতিমধ্যেই জেনে গেছি বিরূপ আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিবেশে পদ্মা সেতু তৈরি করতে ইঞ্জিনিয়ার ও পরিকল্পনা কারীদের কি রকম কষ্ট করতে হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ 

ব্লগ লিখে আয় করার উপায় | ঘরে বসে বাংলা লিখে টাকা আয় করুন! বিকাশ পেমেন্ট

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কত কিলোমিটার?

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কত কিলোমিটার
পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কত কিলোমিটার

এক নজরে পদ্মা সেতু সম্পর্কিত সকল তথ্য জেনে নিতে পারেন এই সারণী থেকে।  

ব্রিজের নাম পদ্মা সেতু
অফিশিয়াল নামপদ্মা ও বহুমুখী সেতু
ব্রিজের স্থানাঙ্ক২৩.৪৪৬০° উত্তর ৯০.২৬২৩° পূর্ব
তৈরির স্থানঃমুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর
পদ্মা সেতুর মোট দৈর্ঘ্যঃ৬.১৫ কিলোমিটার (২০,২০০ ফুট)
পদ্মা সেতুর প্রস্থ১৮.১০ মিটার (৫৯.৪ ফুট)
নকশা প্রস্তুতকারীAECOM ( এ.ই.সি.ও.এম )
নির্মাণকারী প্রতিশঠানঃচায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিঃ
উপাদানকংক্রিট, স্টিল
নির্মাণ শুরুনভেম্বর , ২০১৪
নির্মাণ শেষ হবে জুন ২০২২ (আনুমানিক)
পদ্মা সেতু চালু হবে কবে জুলাই ২০২২ (আনুমানিক)
পদ্মা সেতু a to z তথ্য বাংলায়

পদ্মা সেতু a to z

প্রিয় পাঠক পদ্মা সেতু দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট দ্বারা নির্মিত একটি ট্রাস ব্রিজ যার প্রস্থ

১৮.১০ মিটার (৫৯.৪ ফুট)।

ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ। 

বাংলাদেশের ব্রিহত্তম এই পদ্মা ব্রিজে পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্পান ইতিমধ্যে বসানো সম্পন্ন হয়েছ। 

সহজ ভাষায় হললে পদ্মা সেতুর মোট স্প্যান সংখ্যা ৪১ টি  এবং প্রতিটি স্পেনের দৈর্ঘ্য 150 মিটার।

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত কি মি

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬.১৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ হচ্ছে ১৮.১০ মিটার। এই পরিকল্পনায অনুসারে নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এই স্থাপনা টি।  

এই সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি।

চায়না ব্রিজ ঠিকাদার কতৃপক্ষ জানিয়েছে পদ্মা সেতু যান চলাচলের উপযোগী হতে ২০২২ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। 

আরও পড়ুনঃ

পদ্মা ব্রিজ নির্মাণের ইতিহাস

2006-07 অর্থবছরে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিসভার সদস্য থাকাকালীন সময়ে প্রকল্প প্রস্তুতি শুরু হয়।  পরবর্তীতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।  তবে পরবর্তীতে এমন কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি যার কারণে বাংলাদেশের বৃহত্তম সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারত।

দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ পদ্মা নদীর উপর তৈরি হওয়া বৃহত্তম এই সেতুতে অর্থায়নে নিজেদের অপারগতা প্রকাশ করে।  পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব সম্পদ থেকে অধ্যায়ন করে এই  ব্রিজ করার পরিকল্পনা হাতে নেয়।  

বাংলাদেশ সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ ও বহুমুখী উদ্যোগের কারণে 2011 সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। এবং পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালে। 

পদ্মা নদীর উপর তৈরি বহুমুখী আর্থসামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতুর নকশা তৈরি করেন AECOM কম্পানি। 

পদ্মা সেতুর বাজেট 

২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই সেতুর মূল প্রকল্পের পরিকল্পনা করেন । সে সময় পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। 

পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পদ্মা সেতুর সাথে বহুল প্রতীক্ষিত রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। 

তখন (২০১১ সালে) এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ক্যালকুলেশন করলে রেলপথ সংযুক্ত করার ফলে পদ্মা সেতুর ব্যয় আরও আট হাজার কোটি টাকা বেড়ে যায়। 

অর্থাৎ সবমিলিয়ে পদ্মা সেতুর ব্যয় সব মিলিয়ে  নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বাসেক) ২০১০ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের জন্য প্রাক যোগ্যতা দরপত্র আহবান করে।

প্রথম পরিকল্পনা অনুসারে, ২০১১ সালের শুরুর দিকে সেতুর নির্মাণ কাজ আরম্ভ হওয়ার কথা ছিল এবং ২০১৩ সালের মধ্যে প্রধান কাজগুলো ( পাইলিং ও ফিল্টার বসানোর কাজ) শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পটি তিনটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে, তাই সেতুর জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও ছিল একটি  গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

বন্ধুরা পদ্মা সেতুর জন্য প্রয়োজনীয় এবং অধিগ্রহণকৃত মোট জমির পরিমাণ 918 হেক্টর। 

পদ্মা সেতুর পিলার ও স্প্যান সংখ্যা কত?

AECOM নকশা প্রস্তুতকারী নকশা অনুসারে পদ্মা সেতুর পিলার ও স্প্যান সংখ্যা ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি।

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত?

কিলোমিটার ও ফুটের পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ভিন্ন ভিন্ন। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬.১৫ কিলোমিটার (২০,২০০ ফুট)।

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার?

সরকারি হিসাবে পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার বা ২০,২০০ ফুট।

আরও পড়ুনঃ

উপসংহার, 

আশা করি আপনি পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আমরা চেষ্টা করেছি পদ্মা সেতু সম্পর্কে এ টু জেড বর্ননা আপনাদের প্রদান করতে। 

এছাড়াও পদ্মা সেতু সম্পর্কে আপনার আরো কিছু জানার থাকলে আমাদের একটি কমেন্ট করে জানান। 

বাংলাদেশে ও ইন্টারনেট দুনিয়ার খবরা-খবার জানতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

Leave a Comment

1 × four =

%d bloggers like this: