সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার অধিকার সুরক্ষায় নতুন বিধান যুক্ত করতে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ট্রান্সফার অব প্রপার্টি সংশোধনী বিল, ২০২৬। নতুন আইনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজের জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগস্বত্ব নিজের কাছে রেখে সন্তান, নাতি-নাতনি কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় নতুন এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আজীবন ভোগস্বত্ব রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ চালু হলে দাতা সম্পত্তি অন্যের নামে দান করলেও জীবদ্দশায় সেটি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। স্থাবর ও অস্থাবর উভয় ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট শর্তে এই বিধান প্রযোজ্য হবে। তবে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল করা বাধ্যতামূলক থাকবে।
নতুন আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের এই পদ্ধতিকে একটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এর ফলে প্রচলিত গিফট, মুসলিম আইনের হেবা কিংবা অন্য কোনো বৈধ সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। সব ধর্মের মানুষের জন্যই নতুন এই বিধান সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
নতুন আইনে আজীবন ভোগস্বত্ব রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ
দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগস্বত্ব সংরক্ষণ করে নির্দিষ্ট আত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধান যুক্ত করতে ট্রান্সফার অব প্রপার্টি সংশোধনী বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাস হয়। এর আগে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কয়েকটি সংশোধনসহ বিলটি পাসের সুপারিশ করে।
কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী দলের সদস্যরা বিলটির বিষয়ে ইসলামিক স্কলার এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতামত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুনঃ বদলির তদবির করলেই এসিল্যান্ডদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা
কার কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে
বিলের প্রস্তাবিত ১২২এ ধারায় নতুন ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি নিজের আজীবন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণ করে স্থাবর অথবা অস্থাবর সম্পত্তি দান করতে পারবেন।
এই পদ্ধতিতে বাবা-মা থেকে সন্তান, দাদা-দাদি বা নানা-নানি থেকে নাতি-নাতনির কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে। একইভাবে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সন্তান বা নাতি-নাতনির কাছ থেকেও উল্টো দিকে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে।
স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যেও এই পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে।
দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির অধিকার কার থাকবে
নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও দাতা তার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগস্বত্ব নিজের কাছে রাখতে পারবেন।
অর্থাৎ সম্পত্তির মালিকানা বা হস্তান্তরের অধিকার গ্রহীতার কাছে গেলেও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার বহাল থাকবে।
স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই হস্তান্তর অবশ্যই নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ, আসছে নতুন নীতিমালা
গ্রহীতা আগে মারা গেলে কী হবে
দাতার জীবদ্দশায় যদি সম্পত্তির গ্রহীতা মারা যান, তাহলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি আইন অনুযায়ী গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে চলে যাবে।
তবে এ ক্ষেত্রেও দাতার আজীবন ভোগস্বত্বের অধিকার বহাল থাকবে। অর্থাৎ দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত তার সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার কোনোভাবেই বাতিল হবে না।
সম্পত্তি হস্তান্তর বাতিল বা পরিবর্তনের নিয়ম
প্রস্তাবিত ১২২বি ধারায় এ ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তর পরিবর্তন বা বাতিলের নিয়মও নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিবন্ধনের পর সাধারণভাবে এই ধরনের দান অপরিবর্তনীয় থাকবে। তবে দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তরের শর্ত পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে।
আর্থিক প্রয়োজন, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা অন্য কোনো বাস্তব প্রয়োজনের কারণে এই পরিবর্তন বা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ সব নাগরিকের জন্য আসছে এক-আইডি কার্ড, জন্মের পরই মিলবে স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয়
সম্মতি দিতে না পারলে কী হবে
কোনো পক্ষ নাবালক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অসুস্থ বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হবে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে সম্মতি দিতে না পারলে জেলা জজ প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিশ দেওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আদেশ দেওয়ার ক্ষমতাও জেলা জজের থাকবে।
আরও পড়ুনঃ স্থানীয় নির্বাচনে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
বিলে যেসব শব্দের পরিবর্তনের সুপারিশ
স্থায়ী কমিটি বিলের কয়েকটি শব্দ ও পরিভাষায় পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে।
এর মধ্যে রাইট অব ইউসুফ্রাক্ট শব্দের পরিবর্তে দ্য রাইট অব লাইফটাইম এনজয়মেন্ট বা লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট রাইটস শব্দ ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোতে লাইফটাইম শব্দ যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে। একইভাবে বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট শব্দের পরিবর্তে লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট রাইটস ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রচলিত হেবা বা দান আইনে কোনো পরিবর্তন হবে কি
নতুন এই সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিকে স্বতন্ত্র ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, গিফট, মুসলিম আইনের হেবা অথবা অন্য কোনো স্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
আরও পড়ুনঃ মোবাইল ব্যালেন্স দিয়েই কেনা যাবে স্মার্টফোন, বাড়ল ডিওবি সীমা
কেন নতুন এই আইন আনা হলো
বর্তমান আইনে দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগস্বত্ব নিজের কাছে রেখে সম্পত্তি দানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না।
এ কারণে রক্তসম্পর্কীয় নির্দিষ্ট স্বজন এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাতার স্বার্থ সুরক্ষার জন্য নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন বিধানের ফলে একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ব্যবহার ও ভোগের অধিকার বজায় রেখেই ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী বা নিকটাত্মীয়ের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুনঃ এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ পাঁচ সিম, ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর নতুন নিয়ম
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


