নতুন আইনে জমির নামজারির নিয়ম কী

জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার পর মালিকানা নিশ্চিত করতে নামজারি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন আইনে জমির নামজারি প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের তথ্য একসঙ্গে দিয়ে আবেদন করার নিয়ম চালু হয়েছে। ফলে জমির মালিকানা রেকর্ড হালনাগাদ করতে আগের তুলনায় নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

নতুন আইনে জমির নামজারি বা মিউটেশনের ক্ষেত্রে ওয়ারিশদের নাম একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগ না হলে একই খতিয়ানে যৌথভাবে নামজারি করতে হবে। তবে পারস্পরিক বণ্টন হয়ে থাকলে বণ্টননামা বা সমঝোতা দলিলের ভিত্তিতে পৃথক খতিয়ানে নামজারি করা যাবে।

বর্তমানে ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনলাইনে নির্ধারিত ফি দিয়ে নামজারির আবেদন করা যায়। আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়া জরুরি। কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে কিংবা জমি নিয়ে কোনো আপত্তি বা বিরোধ থাকলে নামজারি সম্পন্ন হতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।

নতুন আইনে জমির নামজারিতে যেসব নিয়ম মানতে হবে

জমির নামজারি কী?

জমি কেনা বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার পর সরকারি রেকর্ড বা খতিয়ানে আগের মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নাম যুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারি বা মিউটেশন বলা হয়। জমির মালিকানা সংক্রান্ত রেকর্ড হালনাগাদ রাখার জন্য এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থার আওতায় অনলাইনে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে নামজারির আবেদন করা যায়। আবেদন যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী খতিয়ানে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

আরও পড়ুনঃ ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন না ৮ শ্রেণির মানুষ

ওয়ারিশসূত্রে নামজারির নতুন নিয়ম

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নামজারির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। এখন কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার রেখে যাওয়া জমির নামজারির সময় সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে আবেদন করতে হবে।

ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগাভাগি না হলে একই খতিয়ানে যৌথভাবে বা কো শেয়ারার হিসেবে নামজারি হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ওয়ারিশের নামে আলাদা খতিয়ান করা হবে না।

তবে ওয়ারিশরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে নিলে বণ্টননামা বা সমঝোতা দলিলের ভিত্তিতে পৃথক নামজারি করা যাবে। আবেদন করার সময় সব ওয়ারিশের তথ্য, ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একসঙ্গে জমা দিতে হবে। এসব তথ্য বা কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে আবেদন গ্রহণ নাও হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ টেলিটক বন্ধ সিম অফার ২০২৬: ৩৬ টাকায় মিলবে ১০ দিনের ডাটা ও মিনিট

নামজারি না করলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে

জমির নামজারি বা খতিয়ান নিজের নামে না থাকলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া জমি কেনাবেচা, দান কিংবা হেবা করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

মালিকানা থাকলেও সরকারি রেকর্ড নিজের নামে হালনাগাদ না করলে জমি অবৈধ দখলদারের কবলে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধের ক্ষেত্রেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

যাদের নামজারি আগে থেকেই সম্পন্ন হয়েছে এবং খতিয়ানে কোনো ভুল নেই, তাদের নতুন করে নামজারি করার প্রয়োজন নেই। তবে পুরোনো রেকর্ড ডিজিটাল ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো।

আরও পড়ুনঃ বিনা খরচে মালয়েশিয়া যেতে আবেদন করবেন যেভাবে

নামজারির জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে

জমির নামজারি করতে সাধারণত দলিলের কপি, বায়না বা রেজিস্ট্রি দলিল, খতিয়ানের কপি এবং দাগ নম্বরসহ জমির বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন হয়।

এর পাশাপাশি আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, ওয়ারিশসূত্রে জমি পাওয়া গেলে ওয়ারিশ সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যুসনদ এবং নির্ধারিত আবেদন ফরম জমা দিতে হয়। নামজারির নির্ধারিত ফি পরিশোধের রসিদও প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ কোরিয়ার ভিসাপ্রত্যাশীদের সুখবর, ঢাকায় চালু হচ্ছে নতুন আবেদনকেন্দ্র

নামজারি সম্পন্ন হতে কতদিন লাগে

বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় সাধারণত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। সাধারণভাবে প্রায় ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন হতে পারে।

তবে আবেদনপত্রে কোনো তথ্য বা কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে। জমি নিয়ে আপত্তি, বিরোধ বা অন্য কোনো জটিলতা থাকলেও নামজারি নিষ্পত্তিতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ মোটরসাইকেল আমদানির বিধি-নিষেধ উঠল, গেজেট প্রকাশ

নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
ALL SIM Offer Update Group Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment