কি পরিমান সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হবে

কি পরিমান সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হবে আপনি জানেন কি? আজ এই পোস্টের মাধ্যমে আমরা জানাবো আপনার কি পরিমাণ সম্পদ থাকলে আপনাকে কুরবানী দিতে হবে।

আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের করার জন্য অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে কুরবানী।

এক নিষ্ঠ নিয়ত করে সারিতা পরিমাণ সম্পদ বা টাকার মালিক এর উপর আল্লাহ তাআলা কুরবানী ফরজ করেছেন।

কিন্তু কি পরিমান টাকা বা সম্পদ থাকলে আপনার উপর কুরবানী ফরজ?

প্রতি এক বছর পর পর একবারই কোরবানি দিতে হয়।

তাই আমাদের মধ্যে অনেকেই জানিনা কি পরিমাণ সম্পদ থাকলে কুরবানী দিতে হবে।

এবিষয়টি না জানার কারণে অনেকের উপর কুরবানী আবশ্যক হবার পরেও আমরা অনেকে মহান আল্লাহ তাআলার এই বছরটি পালন করি না।

কি পরিমান সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হবে ২০২২

কি পরিমান সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হবে ২০২২
কি পরিমান সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হবে ২০২২

আপনি জানেন কি পরিমান টাকা বা সম্পদ থাকলে আপনাকে কোরবানি করতে হবে সে সম্পর্কে ইসলাম আমাদেরকে দিয়েছে সুস্পষ্ট ধারণা।

আমরা চেষ্টা করব ইসলামের বা কুরআনের নিয়ম নীতি অনুসরণ করে আজকের এই পোস্টে কি পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি দিতে হবে সে সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব।

তার পরিবার খরচ মেটানোর পর যদি জিলহজ মাসের ১০,১১ ও ১২ তারিখে ইসলামে উল্লেখিত নির্ধারিত পরিমাণ স্বর্ণ বা রুপা আপনার থাকে।

কিংবা নির্ধারিত স্বর্ণ বা রুপার বাজারদর পরিমাণ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা থাকে তাহলে ওই ব্যক্তির উপর কোরবানি করা ফরজ বা আবশ্যক।

নিয়ম মতো হিজরী বছরের জিলহজ মাসের ১০,১১ ও ১২ তারিখে কুরবানির পশু জবাই করতে হয়।

ওই দিনগুলোর মধ্যে কোরবানি দেওয়ার শর্ত হলো পরিবারের জীবিকা নির্বাহের খরচ ছাড়া  নিসাব পরিমাণ সম্পদই আপনার কাছে থাকে।

তাহলে ওই বেক্তির ওপর কোরবানি ফরজ।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা

সম্পদ বা টাকার নিসাব

সম্পদের হিসাব হলো  আপনার সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা এর সময় মূল্য কিংবা সাড়ে 52 তোলা রুপা বা তার সমমূল্য সম্পদ থাকা।

আর কোরবানি ফরজ হওয়ার জন্য এ পরিমাণে টাকা বা সম্পদের মালিক হতে হবে এরকম কোন শর্ত প্রযোজ্য নেই।

আপনার কাছে যদি এর চাইতেও কম সম্পদ বা টাকা থাকে।

কিন্তু আপনার কাছে যদি এর চাইতেও কম সম্পদ বা টাকা থাকে কিন্তু আপনার ইচ্ছা আছে আপনি কোরবানি করবেন সে ক্ষেত্রে আপনি করতে পারেন।

১. কি পরিমান সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হবে এ সম্পর্কে স্বর্ণের নিসাব(পরিমান) ও মূল্যের বিবরণ

কি পরিমান স্বর্ণ থাকলে কুরবানি দিতে হবে
কি পরিমান স্বর্ণ থাকলে কুরবানি দিতে হবে

কোন ব্যক্তি যদি স্বর্ণাকে পরিমাণ ধরে তবে তাকে সারে ৭ ভরি/ তোলা স্বর্ণের মূল্য উপর তার টাকার পরিমাণ হিসাব করে কুরবানী দিতে হবে।

এবছরের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী-

> ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম- ৭২ হাজার টাকা হিসাবে সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণের দাম- ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

> ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম- ৭২ হাজার টাকা হিসাবে সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণের দাম- ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

> ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম ৬৯ হাজার টাকা হিসাবে সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণের দাম- ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

> ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরির (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম ৬০ হাজার টাকা হিসাবে সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণের দাম- ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

> সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম- ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণের দাম- ৩ লাখ ৭১ হাজার ২৫০টাকা (স্বর্ণের এ দাম ওঠা নামা করতে পারে।

সেক্ষেত্রে বাজার দর হিসাব করে নিসাব নির্ধারণ করতে হবে।)

সুতরাং যারা স্বর্ণের হিসাব কুরবানী করবেন তাদের কমপক্ষে চার লক্ষ টাকার সম্পদ থাকতে হবে।

কিভাবে গুগল ম্যাপে ঠিকানা যোগ করব । Add address on Google Map

২. কি পরিমান সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হবে এ সম্পর্কে রুপার নিসাব ও মূল্যের বিবরণ

কি পরিমান রূপা থাকলে কুরবানি দিতে হবে
কি পরিমান রূপা থাকলে কুরবানি দিতে হবে

কোন ব্যক্তি যদি রুপাকে পরিমাণ ধরে তবে তাকে সারে ৭ ভরি/ তোলা রুপারর মূল্য উপর তার টাকার পরিমাণ হিসাব করে কুরবানী দিতে হবে।

এবছরের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী-

> ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার মূল্য ১ হাজার ৫১৬ টাকা হিসাবে সাড়ে ৫২ তোলা রুপার দাম হয়- ৭৯ হাজার ৫৯০ টাকা।

> ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১ হাজার ৪৩৫ টাকা হিসাবে সাড়ে ৫২ তোলা বা ভরির দাম হয়- ৭৫ হাজার ৩৩৭ টাকা পঞ্চাশ পয়সা।

> ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা হিসাবে সাড়ে ৫২ তোলা/ভরির দাম হয়- ৬৪ হাজার ৩১২ টাকা পঞ্চাম পয়সা। এবং

> সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৯৩৩ টাকা হিসাবে সাড়ে ৫২ তোলা/ভরির দাম ৪৮ হাজার ৯৮২ টাকা পঞ্চাশ পয়সা।

তাই কোন ব্যক্তির কাছে যদি সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকাও থাকে তবে তাকে রুপার নিসাব পরিমাণ অর্থের বিধান অনুযায়ী কুরবানি করতে হবে।

সুতরাং,

পরিবারের খরচ মেটানোর পর জিলহজ মাসের ১০,১১, ও ১২ তারিখের মধ্যে যদি রুপা বা স্বর্ণের পরিমান বাজার দর যদি ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ পর্যন্ত হয় তাহলে সে ব্যক্তির জন্য কুরবানি ফরজ।

আরও পড়ুনঃ

কল রিংটোন ডাউনলোড

সুইস ব্যাংক (Swiss Bank) | সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের টাকা বেশি কেন যাচ্ছে

কি পরিমান সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হবে এ সম্পর্কে কিছু হাদিসের বাণী

রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে এসেছে, সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলিম নর-নারী ঋণমুক্ত থাকা অবস্থায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই তার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব।

এই পরিমান সম্পদ থাকার পরও যদি কেউ কুরবানি না করে তাহলে তিনি গুনাগার।

বাদায়েউস সানাঈ গ্রন্থে এসেছে, ‌‌নাবালেগ; পাগল; যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকও হয় তাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।

তবে তাদের অবিভাবক যদি চায় তাহলে নিজ সম্পদ ধারা তাদের পক্ষ থেকে কুরবানি করতে পারে।এবং সে কুরবানি হবে বিশুদ্দ।

দুররুল মুখতার গ্রন্থে এসেছে, মুসাফিরের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।

মুসাফির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে ব্যক্তি কমপক্ষে ৪৮ মাইল সফরের নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে।

বাদায়েউস সানাঈতে এসেছে,কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য কুরবানির ৩ দিনই মুকিম থাকা জরুরি নয়।

বরং কেউ যদি এ ৩ দিনের শুরুর দিকে মুসাফির থাকে আর তিনি যদি শেষ দিকে মুকিম হয়ে যায় তবে তার নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার কুরবানি ওয়াজিব হবে।

আর কেউ যদি এ ৩ দিনের শুরুতে মুকিম থাকে এবং শেষের দিকে মুসাফির হয়ে যায় তাহলে তার ওপরে কুরবানি ওয়াজিব হবে না।

দুররুল মুখতার গ্রন্থে এসেছে, মুসাফিরের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।

মুসাফির দ্বারা বুজানো হয়েছে যে ব্যক্তি কমপক্ষে ৪৮ মাইল সফরের নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে।

বাংলা প্রতিবেদন লেখার নিয়ম

দুররুল মুখতার গ্রন্থে এসেছে, মুসাফিরের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।

মুসাফির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে ব্যক্তি কমপক্ষে ৪৮ মাইল সফরের নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে।

বাদায়েউস সানাঈতে এসেছে,

কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য কুরবানির ৩ দিনই মুকিম থাকতে হবে তা জরুরি নয়।

বরং কেউ যদি এ ৩ দিনের শুরুর দিকে মুসাফির থাকে আর শেষ দিকে মুকিম হয়ে যায় তবে তার নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার কুরবানি ওয়াজিব হবে।

আর কেউ যদি এ ৩ দিনের শুরুতে মুকিম থাকে এবং শেষের দিকে মুসাফির হয়ে যায় তাহলে তার ওপরে কুরবানি ওয়াজিব হবে না।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মতের সব নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকদেরকে যথাযথভাবে কুরবানি আদায় করার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন।

আমিন।

আরও পড়ুনঃ

গুগল প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে | গুগলের প্রতিষ্ঠাতা কে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স টিকেট বুকিং

কি পরিমান সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হবে FAQS

কি পরিমান সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হবে?

নিসাব পরিমান স্বর্ণ বা রূপা অথবা টাকা থাকলে একজন ব্যক্তির উপর কুরবানি দিতে হবে।

কত তারিখে কুরবানি দিতে হয়?

জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের মধ্যে কুরবানি দিতে হয়।

কি পরিমান স্বর্ণ থাকলে কুরবানি দিতে হয়?

কুরবানির জন্য ৭ ভরি/তোলা স্বর্ণ বা তার সমপরিমান ৪ লাখ টাকা থাকলে কুরবানি দিতে হয়।

কি পরিমান রূপা থাকলে কুরবানি দিতে হয়?

কুরবানির জন্য ৭ ভরি/তোলা রূপা বা তার সমপরিমান ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা থাকলে কুরবানি দিতে হয়।

উপসংহারঃ

কোরবানি এর সকল কিছু আপনাদের আজ আমরা বলার চেষ্টা করেছি।

আপনারা সঠিক নিয়ম মেনে তারপর কোরবানি দিবেন।

আমরা চাই বাংলাদেশের সকল পরিবার কুরবানি দিক।

এবং সকলে একে অ্যানের প্রতি আরও সহযোগী হয়ে উটতে হবে।

এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকুক বা না থাকুক কুরবানী দেওয়ার যদি ইচ্ছে থাকে তাহলে অবশ্যই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে কোরবানি দিবেন।

এরকম নতুন নতুন আরও তথ্য পেতে এবং নতুন কিছু জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

ভালো লাগলে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইটটি।

চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজে। 

আরও পড়ুনঃ

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লু ভেরিফিকেশন

রবি নাম্বার কিভাবে দেখে

Leave a Comment

one × three =